বাংলাদেশে আন্তর্জাতিক অনলাইন পেমেন্ট সেবা PayPal চালুর সম্ভাবনা ও প্রয়োজনীয়তা যাচাই করতে সরকার একটি বিশেষ কমিটি গঠন করেছে। ২ মার্চ ২০২৬ প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে জারি করা এক গেজেট বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়। দীর্ঘদিন ধরে দেশের ফ্রিল্যান্সার ও প্রযুক্তি উদ্যোক্তারা বৈশ্বিক পেমেন্ট প্ল্যাটফর্ম ব্যবহারের সুযোগ দাবি করে আসছেন। সরকারের এই উদ্যোগকে তাই ডিজিটাল অর্থনীতির জন্য গুরুত্বপূর্ণ একটি পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে।

ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা রেহান আসিফ আসাদ–এর সভাপতিত্বে গঠিত এই কমিটিতে আরও রয়েছেন বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ–এর চেয়ারম্যান, বাংলাদেশ ব্যাংক–এর গভর্নর, অর্থ বিভাগের সচিব, জাতীয় রাজস্ব বোর্ড–এর চেয়ারম্যান এবং তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিভাগ–এর সচিব। আইসিটি বিভাগের সচিব এই কমিটির সদস্য সচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন।
গেজেট অনুযায়ী, কমিটির অন্যতম প্রধান কাজ হবে বাংলাদেশে পেপ্যালের কার্যক্রম শুরু করার জন্য কী ধরনের নীতিগত, প্রযুক্তিগত ও প্রশাসনিক পদক্ষেপ দরকার তা নির্ধারণ করা। বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ অনলাইন পেমেন্ট প্ল্যাটফর্ম পেপ্যাল মূলত আন্তঃসীমান্ত লেনদেনে ব্যবহৃত হয় এবং বিশেষ করে ফ্রিল্যান্সারদের কাছে এটি অত্যন্ত জনপ্রিয় একটি মাধ্যম।
এছাড়াও কমিটিকে দেশের বিভিন্ন হাই-টেক ও সফটওয়্যার পার্ক এবং আইসিটি সেন্টারের ব্যবস্থাপনা উন্নত করার বিষয়েও কাজ করতে বলা হয়েছে। লক্ষ্য হচ্ছে ফ্রিল্যান্সার ও প্রযুক্তি পেশাজীবীদের জন্য সাশ্রয়ী কর্মপরিবেশ তৈরি করা এবং প্রযুক্তি খাতের উদ্যোক্তাদের জন্য সহায়ক অবকাঠামো গড়ে তোলা।
কমিটির আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব হলো প্রযুক্তি খাতের জন্য দক্ষ জনবল তৈরি করতে আইসিটি প্রশিক্ষণ কর্মসূচি সম্প্রসারণের বিষয়ে সুপারিশ করা। প্রজ্ঞাপনে উল্লেখ করা হয়েছে, প্রয়োজন হলে কমিটি অতিরিক্ত সদস্য কো-অপ্ট করতে পারবে।দীর্ঘদিন ধরে বাংলাদেশের ফ্রিল্যান্সার ও প্রযুক্তি উদ্যোক্তারা পেপ্যালের মতো বৈশ্বিক পেমেন্ট সেবা চালুর দাবি জানিয়ে আসছেন। তাদের মতে, এমন একটি সেবা চালু হলে আন্তর্জাতিক লেনদেন আরও সহজ হবে এবং দেশের দ্রুত বাড়তে থাকা ডিজিটাল কর্মশক্তি বৈশ্বিক অর্থনীতির সঙ্গে আরও শক্তভাবে যুক্ত হতে পারবে।
সূত্রঃ দ্যা ডেইলি স্টার
