Wednesday, March 4, 2026

আমেরিকা যেভাবে যুদ্ধকে লাভজনক ব্যবসায় পরিণত করেছে

শেয়ার

বিজ্ঞাপন
আমেরিকা যুদ্ধকে লাভজনক ব্যবসা করেছে

যুক্তরাষ্ট্র বর্তমান পৃথিবীর সবচেয়ে সেরা সামরিক শক্তিধর দেশ হলেও, বিগত কয়েক দশকে তারা যতগুলো যুদ্ধ করেছে, তার প্রায় অধিকাংশ যুদ্ধেই আমেরিকা হেরেছে। ভিয়েতনাম যুদ্ধ, ইরাক যুদ্ধ বা আফগানিস্তান যুদ্ধ আমেরিকার পরাজয়ের উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত। কিন্তু আশ্চর্যের বিষয় হলো, যুদ্ধের ফলাফল যাই হোক না কেন, প্রায় প্রতিটি যুদ্ধ থেকেই আমেরিকার অর্থনৈতিকভাবে ব্যাপক লাভবান হয়েছে। আফগানিস্তানের যুদ্ধ একটি পরম বিপর্যয় হলেও মার্কিন সামরিক ঠিকাদারদের জন্য এটি ছিল একটি বাজিমাৎ করা প্রকল্প। এমনকি গাজা এবং ইউক্রেনের যুদ্ধে সরাসরি মার্কিন সৈন্য না থাকলেও, এই যুদ্ধ থেকে যুক্তরাষ্ট্র বিপুল মুনাফা করেছে। সেকারণেই মূলত আমেরিকানরা যুদ্ধকে নিরস্ত্র মানুষের বিরুদ্ধে নির্মম হত্যাযজ্ঞ হিসেবে নয়, বরং অবাধে বিপুল টাকা কামানোর লাভজনক ব্যবসা হিসেবে দেখে। এই বিষয়টির পোশাকি নাম হলো Military Industrial Complex, সংক্ষেপে MIC। যুদ্ধে হারজিত যাই হোক না কেন, আমেরিকার অস্ত্র ব্যবসায়ীরা সবসময়ই বিজয়ী হয়।

১৯৬০-এর দশকের শুরুতে প্রেসিডেন্ট ভুইট আইজেনহাওয়ার তাঁর বিদায়ী ভাষণে এক ঐতিহাসিক সতর্কবার্তা দিয়েছিলেন। তিনি বলেছিলেন, আমেরিকার নিরাপত্তা আর অর্থনীতি রক্ষার জন্য যে বিশাল সামরিক যন্ত্র তৈরি হয়েছে, তার সঙ্গে অস্ত্র শিল্পের এক অদৃশ্য বন্ধন তৈরি হচ্ছে। এই বন্ধনকে তিনি Military Industrial Complex বা সামরিক শিল্প কমপ্লেক্স নামে ডাকেনা আইজেনহাওয়ার ভয় দেয়েছিলেন, এই শক্তিশালী জোট যদি অযাচিত প্রভাব অথবা অতিরিক্ত ক্ষমতা পেয়ে যায়, তাহলে মার্কিন গণতন্ত্রই বিপদের মুখে পড়তে পারে। সময়ের সঙ্গে তাঁর সেই আশঙ্কা যে কতটা সত্যি হয়ে উঠেছে, তা আজকের বাস্তবতায় স্পষ্ট।

আমেরিকা এর সামরিক শিল্প কমপ্লেক্স শুধু অস্ত্র বানিয়েই ক্ষান্ত হয় না, বরং আমেরিকার পররাষ্ট্রনীতি তৈরি করতেও বড় ভূমিকা রাখে। ২০২৩ সালে দেখা গেছে, মার্কিন প্রতিরক্ষা কোম্পানিগুলো প্রায় এক ট্রিলিয়ন ডলারের অস্ত্র বিক্রি করেছে, যার মধ্যে রেকর্ড ৭৬৫ বিলিয়ন ডলার এসেছে সরাসরি সরকারি চুক্তি থেকে। অর্থাৎ মার্কিন সরকার নিজেই এইসব অস্ত্র কোম্পানির সবচেয়ে বড় ক্রেতা।

আমেরিকা যেভাবে যুদ্ধকে লাভজনক ব্যবসায় পরিণত করেছে

যুক্তরাষ্ট্র যখন ইসরায়েল কিংবা ইউক্রেনের মতো দেশে সামরিক সাহায্য পাঠায়, তখন অনেকেই ভাবেন, সেই টাকা হয়তো সরাসরি সেই দেশের সরকারের হাতে যায়। কিন্তু বাস্তবে বিষয়টি মোটেও সেরকম নয়। যুক্তরাষ্ট্রের দেওয়া আর্থিক বা সামরিক সহায়তার বড় অংশই ফিরে আসে আমেরিকান অস্ত্র নির্মাতা কোম্পানিগুলোর পকেটে। তার মানে যুক্তরাষ্ট্রের সরকার সেসব দেশের সাধারণ মানুষের করের টাকা পরোক্ষভাবে মার্কিন অস্ত্র ব্যবসায়ীদের পকেটে ঢুকিয়ে দেয়।

রাশিয়া ইউক্রেনে আক্রমণ করার এক বছরের মাথায়, মার্কিন অস্ত্র নির্মাতা প্রতিষ্ঠান জেনারেল ডাইনামিক্সের (General Dynamics) শেয়ারের দাম প্রায় ৩৪ শতাংশ বেড়ে যায়। এরপর ইসরায়েল গাজায় হামলা শুরু করার পর আরেক মার্কিন অস্ত্র নির্মাতা জায়ান্ট লকহিড মাটিনের (Lockheed Martin) শেয়ারের দাম ৫৪ শতাংশেরও বেশি বেড়ে যায়। গাজা এবং ইউক্রেনের যুদ্ধ চলাকালীন রেথিয়ন (Raytheon), বোয়িং (Boeing), নর্থরপ গ্রুম্যান (Northrop Grumman) এর মতো সামরিক প্রতিরক্ষা সামগ্রী কোম্পানিগুলোর শেয়ারমূল্য এবং মুনাফাও আকাশ ছুঁয়েছে।

১৯৪৮ সাল থেকে যুক্তরাষ্ট্র ইসরায়েলকে ৩০০ বিলিয়ন ডলারেরও বেশি বিদেশি সাহায্য দিয়েছে, যা অন্য কোনো দেশের ক্ষেত্রে ঘটেনি। কিন্তু সেই অর্থও শর্তসাপেক্ষে দেওয়া হয়েছে। ইসরায়েলকে বলা হয়, এই টাকার বড় অংশ আমেরিকান কোম্পানিগুলোর কাছ থেকে অস্ত্র কিনতেই খরচ করতে হবে। ফলে সেই অর্থ আবার ফিরে আসে লকহিড মার্টিন, রেথিয়ন বা বোয়িং-এর মতো কোম্পানিগুলোর কাছে। হামাস, হিজবুল্লাহ, হুথি বা ইরান যে পক্ষ থেকেই ইসরায়েলের দিকে মিসাইল ছোড়া হোক না কেন, তাতে সবচেয়ে বেশি খুশি আর লাভবান যুক্তরাষ্ট্রের রেথিয়ন। কারণ তারাই ইসরায়েলের এয়ার ডিফেন্স সিস্টেমের সরঞ্জাম সরবরাহ করে।

বিজ্ঞাপন
Hossain Hawlader
Hossain Hawladerhttps://www.mehrab360.com
আমার নাম হোসাইন হাওলাদার। আমি www.mehrab360.com এ একজন সম্পাদক হিসেবে কাজ করছি। আমি বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি নিয়ে লিখি, বিশেষ করে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, গ্যাজেট, মহাকাশ এবং উদ্ভাবনী প্রযুক্তির উপর জোর দিই। জটিল প্রযুক্তি সহজ ভাষায় ব্যাখ্যা করতে আমার ভালো লাগে। বর্তমানে আমি একজন ছাত্র। আমি খুলনা সরকারি কলেজ, খুলনা থেকে বিজ্ঞান বিভাগে উচ্চ মাধ্যমিক পাস করেছি। ইমেইল: info@mehrab360.com

আরো পড়ুন

এই সম্পর্কে আরো পড়ুন