Friday, February 27, 2026

বাংলাদেশে কেন এত ভূমিকম্প হচ্ছে?

শেয়ার

বিজ্ঞাপন
ভূমিকম্প

২৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ তারিখে সাতক্ষীরার আশাশুনি উৎপত্তিস্থল হতে ৫.৩ মাত্রার ভূমিকম্প লক্ষ্য করা গেছে। সব মিলিয়ে সাম্প্রতিক সময়ে বাংলাদেশে মাত্র এক সপ্তাহের ব্যবধানে ছোট-বড় মিলিয়ে প্রায় ৬ বার ভূমিকম্প হয়েছে। ভূমিকম্প আসলে কেন হয়, একটি বড় ভূমিকম্পের পর কেন আরো বেশ কিছু ছোট ছোট ভূমিকম্প হয়ে থাকে এবং আবহাওয়ার মত ভূমিকম্পের কোন পূর্বাভাস দেওয়া যায় না কেন?

ভূমিকম্প কেন হয়?

ভূমিকম্প আসলে পৃথিবীর ভেতরের অস্থিরতা বাইরে প্রকাশ পাওয়ার একটি স্বাভাবিক ঘটনা। পৃথিবীর ভূপৃষ্ঠ শক্ত, স্থির ও একটানা বিস্তৃত মনে হলেও এর ভেতরে সবসময়ই নড়াচড়া চলতে থাকে। পৃথিবীর ভূপৃষ্ঠ আসলে বিশাল বিশাল কয়েকটি টুকরো পাত দিয়ে গঠিত, যেগুলোকে টেকটোনিক প্লেট বলা হয়। প্লেটগুলো এমনভাবে সাজানো যে তারা সবসময় ধীরে ধীরে নড়তে থাকে। এসব প্লেট বছরে মাত্র কয়েক সেন্টিমিটার জায়গা পরিবর্তন করে।

এই প্লেটগুলো যখন নিজেদের মতো চলতে থাকে, তখন কখনো সামনে থাকা অন্য প্লেটের সঙ্গে ধাক্কা খায়, কখনো পাশাপাশি ঘষা খায়, আবার কখনো এক প্লেট আরেকটির নিচে ঢুকে যেতে চায়। প্লেটগুলো যেখানে আটকে থাকে, সেখানে ধীরে ধীরে চাপ জমে, কিন্তু উপরে আমরা কিছু বুঝতেই পারি না।

হঠাৎ একদিন সেই চাপের বাঁধ ভেঙে যায়। ভেতরের শক্তি একসঙ্গে বেরিয়ে এসে মাটিকে ঝাঁকুনি দেয়।গভীর যে জায়গা থেকে এই কম্পন শুরু হয়, সেটাকে বলা হয় ফোকাস, আর ফোকাসের ঠিক উপরের জায়গা, যেখানে সবচেয়ে বেশি কাঁপুনি লাগে, সেটাকে বলা হয় (এপিসেন্টার)।

পৃথিবীর অনেক জায়গায় ফল্ট লাইন বা ভূগর্ভের ফাটলসমৃদ্ধ অঞ্চল আছে, সেখানে প্লেটগুলো বেশি চাপের মধ্যে থাকে। তাই এসব অঞ্চলে ভূমিকম্প তুলনামূলক বেশি ঘটে।

কখনো কখনো আগ্নেয়গিরির নিচে গলিত পাথর বা ম্যাগমা নড়াচড়া করলেও ছোটখাটো ভূমিকম্প হয়।

এগুলো সাধারণত বড় হয় না, কিন্তু আগ্নেয়গিরির অগ্ন্যুৎপাতের আগে ভূমিকম্প বাড়তে দেখা যায়।

বিজ্ঞান সম্পর্কে আরো পড়ুন

বাংলাদেশে কেন এত ভূমিকম্প হচ্ছে?

বাংলাদেশে ভবিষ্যতে ভয়াবহ ভূমিকম্পের ঝুঁকি আছে। কারণ ভৌগলিকভাবে বাংলাদেশের ভূপৃষ্ঠের নিচে একাধিক টেকটোনিক প্লেটের সংযোগ বা প্রভাব অঞ্চল রয়েছে। বিশেষ করে দেশের একটি বৃহৎ বেসিনে মাটির গঠন এবং মাটির নিচের ফাটল বাংলাদেশের ভূত্বককে ভূমিকম্প-প্রবণ করে তুলেছে। তবে দেশের সব জায়গা একই রকম ঝুঁকিতে নেই।

বাংলাদেশ মূলত ইন্ডিয়ান প্লেট, ইউরেশিয়ান প্লেট এবং বার্মা মাইক্রো প্লেটের মধ্যবর্তী এলাকায় বসে আছে। ভারতীয় প্লেট দক্ষিণ দিক থেকে ধীরে ধীরে উত্তরের দিকে এগোচ্ছে। এই অগ্রসর হওয়া কখনো থামে না। প্রতি বছর এটি কয়েক সেন্টিমিটার করে উত্তরের দিকে ঠেলে দিচ্ছে। এই ধাক্কার সরাসরি প্রভাবেই সিলেট, ময়মনসিংহ, চট্টগ্রাম অঞ্চলে ভূপৃষ্ঠের নিচে অস্থিরতা তৈরি হচ্ছে।

বাংলাদেশের পূর্বদিকে আছে বার্মা মাইক্রো প্লেট। এটি একটি ছোট কিন্তু অত্যন্ত সক্রিয় টেকটোনিক অঞ্চল। এই প্লেটটি পশ্চিম দিকে চাপ দিচ্ছে, আর ভারতীয় প্লেট ঠিক বিপরীত দিক থেকে পূর্বদিকে ঠেলে দিচ্ছে। দুই দিকের এই টানাপোড়েনের মাঝখানে পড়েছে চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, বান্দরবান ও পার্বত্য চট্টগ্রাম এলাকা।

এখানেই রয়েছে কুখ্যাত মেগা থ্রাস্ট ধরনের ভূগর্ভস্থ ফাটল। বাংলাদেশের উত্তর অংশটিও ইউরেশিয়ান প্লেটের সাথে যুক্ত। ভারতীয় প্লেট উত্তর দিকে যত এগোয়, তত এটি ইউরেশিয়ান প্লেটের নিচে ঢুকে যেতে চায়। এই সাবডাকশন প্রক্রিয়ায় প্রচণ্ড চাপ জমে। ফলে উত্তরবঙ্গ ও সিলেট অঞ্চলে ভূমিকম্পের ঝুঁকি বেশি।

ঢাকাসহ কয়েকটি বড় শহর নদী এবং বালুমাটির উপর গড়ে উঠেছে। এমন মাটিতে ভূমিকম্প হলে কম্পন বেশি অনুভূত হয় এবং মাটি তরল হয়ে গেলে ভবন বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়। বিশেষজ্ঞরা এই কারণেই ঢাকাকে অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ মনে করছেন।

সূত্রঃ trsp magazine

বিজ্ঞাপন

আরো পড়ুন

এই সম্পর্কে আরো পড়ুন