Friday, February 27, 2026

লাল আভায় দেখা যাবে চাঁদ ৩ মার্চ

শেয়ার

বিজ্ঞাপন
moon

আগামী মাসে পৃথিবী সূর্য ও চাঁদের মাঝখানে এসে দাঁড়াবে।আর তখন রাতের পরিচিত রূপালি চাঁদ এক রহস্যময় লাল আভায় রূপ নেবে।‌ যেন অন্ধকার আকাশে জ্বলন্ত অঙ্গারের টুকরো ভাসছে।

৩ মার্চ ২০২৬ তারিখে মহাবিশ্ব, তার অন্যতম নাটকীয় দৃশ্য উপস্থাপন করবে। একটি পূর্ণ চন্দ্রগ্রহণ, যাকে জনপ্রিয়ভাবে “ব্লাড মুন” বলা হয়। এই বিরল মুহূর্তে চাঁদ তার স্বাভাবিক উজ্জ্বলতা হারিয়ে লাল, তামাটে বা পোড়া কমলা রঙে রূপান্তরিত হবে। যেন মহাজাগতিক মঞ্চে একটি নিঃশব্দ আগুন জ্বলছে।

এটি ২০২৬ সালের প্রথম বড় জ্যোতির্বৈজ্ঞানিক, ঘটনা যা পৃথিবী থেকে দেখা যাবে। এটি সাধারণ আকাশপ্রেমী থেকে শুরু করে অভিজ্ঞ জ্যোতির্বিজ্ঞানী, সবার জন্যই একটি বিরল সুযোগ। কারণ এখানে সূর্য, পৃথিবী এবং চাঁদ নিখুঁত সরলরেখায় অবস্থান করে। তিনটি মহাজাগতিক চরিত্র একই দৃশ্যে অভিনয় করছে। পূর্ণ চন্দ্রগ্রহণ ঘটে যখন পৃথিবী সরাসরি সূর্য ও চাঁদের মাঝখানে অবস্থান করে। তার ছায়া পুরোপুরি চাঁদের উপর পড়ে। সাধারণত চাঁদ সূর্যের আলো প্রতিফলিত করে উজ্জ্বল দেখায়। কিন্তু গ্রহণের সময় পৃথিবী সেই সরাসরি আলো আটকে দেয়। ফলে চাঁদ অন্ধকারে ঢেকে যায়, তবে এটি পুরোপুরি অদৃশ্য হয় না, বরং লাল হয়ে ওঠে।

মহাকাশ সম্পর্কে আরো পড়ুন

NASA এর ব্যাখ্যা অনুযায়ী, পৃথিবীর বায়ুমণ্ডল একটি বিশাল লেন্সের মতো কাজ করে। সূর্যের নীল আলোর তরঙ্গদৈর্ঘ্য চারদিকে ছড়িয়ে পড়ে। কিন্তু লাল আলোর তরঙ্গদৈর্ঘ্য বেশি দূর পর্যন্ত যেতে পারে। পৃথিবীর ছায়ার ভেতরে বাঁক নিয়ে চাঁদের উপর পৌঁছে যায়। ফলে চাঁদ লাল আভায় আলোকিত হয়। এটি এমন এক দৃশ্য যেন পৃথিবীর সব সূর্যোদয় ও সূর্যাস্তের আলো একসাথে চাঁদের উপর প্রতিফলিত হচ্ছে। এই গ্রহণের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ পর্যায়। যাকে টোটালিটি বলা হয়। মাত্র প্রায় ১২ মিনিট স্থায়ী হবে। এই স্বল্প সময়ের জন্য পুরো চাঁদ লাল হয়ে থাকবে। যা ঘটনাটিকে আরও মূল্যবান করে তোলে। অন্ধকারের মাঝে হঠাৎ একটি বিরল রত্ন ঝলসে উঠল।

পৃথিবীর সব জায়গা থেকে একইভাবে এই দৃশ্য দেখা যাবে না। উত্তর ও মধ্য আমেরিকায় এটি পুরোপুরি দৃশ্যমান হবে। আর দক্ষিণ ও মধ্য এশিয়া, বিশেষ করে বাংলাদেশ ও ঢাকার মতো এলাকায় এটি আংশিকভাবে দেখা যেতে পারে। তবে ইউরোপ ও আফ্রিকা থেকে এটি দেখা যাবে না কারণ সেই সময় চাঁদ দিগন্তের নিচে থাকবে। চাঁদের লাল হওয়ার পেছনের কারণ, পৃথিবীর বায়ুমণ্ডলের আলো বিচ্ছুরণ প্রক্রিয়া। একই কারণে দিনের আকাশ নীল দেখায়। কিন্তু গ্রহণের সময় লাল আলো পৃথিবীর ছায়ার ভেতরে ঢুকে চাঁদকে আলোকিত করে। কেউ সেই সময় চাঁদের উপর দাঁড়িয়ে দেখত। তবে সে পৃথিবীকে একটি লাল আলোর বৃত্তে ঘেরা দেখতে পেত। যা একসাথে ঘটতে থাকা সব সূর্যোদয় ও সূর্যাস্তের প্রতিফলন।

পূর্ণ চন্দ্রগ্রহণ গড়ে প্রতি ২.৫ বছরে একবার ঘটে।‌ যদিও পূর্ণ সূর্যগ্রহণ আরও ঘন ঘন ঘটে। চন্দ্রগ্রহণ পৃথিবীর রাতের যেকোনো স্থান থেকে দেখা যায় বলে। এটি বেশি মানুষ প্রত্যক্ষ করতে পারে। এই ব্লাড মুন দেখার জন্য কোনো বিশেষ চশমা বা সুরক্ষা দরকার নেই। খালি চোখেই এটি নিরাপদে দেখা যায়। তবে উঁচু জায়গা, খোলা মাঠ বা ছাদ থেকে দেখলে ভালো দৃশ্য পাওয়া যায়। দূরবীন ব্যবহার করলে এর সূক্ষ্ম রঙের পরিবর্তন আরও স্পষ্ট দেখা যায়। এই ঘটনাটি শুধু একটি জ্যোতির্বৈজ্ঞানিক ঘটনা নয়। এটি আমাদের মহাবিশ্বে অবস্থানের, একটি নিঃশব্দ স্মারক। সূর্য, পৃথিবী, চাঁদ লক্ষ লক্ষ কিলোমিটার দূরে থেকেও নিখুঁতভাবে সারিবদ্ধ হয়। সেই মুহূর্তে আকাশ যেন ছায়া ও আগুন দিয়ে লেখা একটি গল্প, আমাদের সামনে তুলে ধরে। একটি গল্প যা আমাদের মনে করিয়ে দেয়। যে আমরা একটি চলমান, জীবন্ত মহাজাগতিক ব্যবস্থার অংশ।

তথ্যসূত্র: Wired.com

বিজ্ঞাপন

আরো পড়ুন

এই সম্পর্কে আরো পড়ুন