চাঁদে স্থায়ী মানবঘাঁটি তৈরির পরিকল্পনার অংশ হিসেবে NASA চাঁদের পৃষ্ঠে একটি ছোট পারমাণবিক রিঅ্যাক্টর বসাতে চায়। এই রিঅ্যাক্টরের মূল উদ্দেশ্য হলো ভবিষ্যতের চন্দ্রঘাঁটি, গবেষণা ল্যাব এবং দীর্ঘমেয়াদি মহাকাশ মিশনের জন্য নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ করা।
চাঁদের রাত প্রায় ১৪ পৃথিবী দিনের সমান দীর্ঘ হওয়ায় সৌর প্যানেল এই সময়ে কাজ করতে পারে না, তাই পারমাণবিক শক্তি একটি নির্ভরযোগ্য সমাধান হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। এই ধারণা একেবারে নতুন নয়, কারণ মহাকাশে পারমাণবিক শক্তির ব্যবহার শুরু হয়েছিল কয়েক দশক আগে। ১৯৬৫ সালে SNAP-10A ছিল প্রথম পারমাণবিক শক্তিচালিত স্যাটেলাইট, যা পৃথিবীর কক্ষপথে ৪৩ দিন কাজ করেছিল।
পরবর্তীতে Voyager মহাকাশযান এবং Curiosity মঙ্গল রোভারসহ বিভিন্ন মিশনে পারমাণবিক শক্তি ব্যবহার করা হয়েছে। বর্তমানে NASA যে Kilopower রিঅ্যাক্টর তৈরি করেছে, তা ছোট আকারের হলেও কয়েকটি একত্রে একটি চন্দ্রঘাঁটি চালানোর জন্য যথেষ্ট শক্তি দিতে পারে এবং প্রায় ১০ বছর পর্যন্ত কাজ করতে সক্ষম। তবে প্রশ্ন হলো, যদি এই রিঅ্যাক্টর meltdown বা দুর্ঘটনার শিকার হয়, তাহলে কী ঘটবে? পৃথিবীতে পারমাণবিক দুর্ঘটনা হলে বিস্ফোরণ, ধোঁয়া এবং mushroom cloud দেখা যায়, কিন্তু চাঁদের পরিবেশ সম্পূর্ণ ভিন্ন। চাঁদে কোনো বায়ুমণ্ডল, বাতাস বা আবহাওয়া নেই, তাই সেখানে বিস্ফোরণ বা mushroom cloud তৈরি হওয়ার সম্ভাবনা খুবই কম।
বরং রিঅ্যাক্টর অতিরিক্ত গরম হয়ে ধীরে ধীরে গলে যেতে পারে এবং একটি উজ্জ্বল, গলিত ধাতব পুল তৈরি হতে পারে, যা পরে ঠান্ডা হয়ে কঠিন হয়ে যাবে। তেজস্ক্রিয়তা অবশ্যই তৈরি হবে, তবে বাতাস না থাকায় তা দূরে ছড়িয়ে পড়বে না এবং দুর্ঘটনার স্থানেই সীমাবদ্ধ থাকবে। তবে যদি কোনো নভোচারী কাছাকাছি থাকে, তাহলে তারা তেজস্ক্রিয়তার কারণে ঝুঁকিতে পড়তে পারে। তবুও আধুনিক Kilopower রিঅ্যাক্টরগুলো এমনভাবে ডিজাইন করা হয়েছে যাতে meltdown হওয়ার সম্ভাবনা অত্যন্ত কম থাকে।
এতে passive cooling system, কম সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম এবং স্বয়ংক্রিয় নিরাপত্তা ব্যবস্থা রয়েছে, যা দুর্ঘটনার ঝুঁকি উল্লেখযোগ্যভাবে কমায়। ফলে চাঁদে পারমাণবিক রিঅ্যাক্টর শুধু একটি বিদ্যুৎ উৎস নয়, বরং ভবিষ্যতের মহাকাশ ঘাঁটির ভিত্তি হিসেবে কাজ করতে পারে এবং এটি চাঁদে মানুষের স্থায়ী উপস্থিতি নিশ্চিত করার পথে একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ।


Leave a Reply