পৃথিবীর কক্ষপথে ক্রমবর্ধমান স্যাটেলাইটের সংখ্যা এবং এগুলোর বায়ুমণ্ডলে পুড়ে যাওয়ার প্রক্রিয়া পরিবেশের জন্য নতুন হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে। পৃথিবীর কক্ষপথে প্রায় ১৫ হাজার সক্রিয় স্যাটেলাইট রয়েছে। এসব স্যাটেলাইটের আয়ু সাধারণত অল্প কয়েক বছরের হয়ে থাকে। অকেজো স্যাটেলাইটেগুলোকে পৃথিবীর বায়ুমণ্ডলে ফিরিয়ে আনলেই সেগুলো ঘর্ষণের ফলে পুড়ে ছাই হয়ে যায়। কিন্তু এই পুড়ে যাওয়ার প্রক্রিয়াটি এখন বিজ্ঞানীদের কপালে চিন্তার ভাঁজ ফেলেছে।
স্যাটেলাইট এর বর্তমান পরিস্থিতি ও আয়ুষ্কাল

- বর্তমানে পৃথিবীর কক্ষপথে প্রায় ১৫ হাজার সক্রিয় স্যাটেলাইট অবস্থান করছে।
- এসব স্যাটেলাইটের কার্যক্ষমতা সাধারণত মাত্র কয়েক বছরের হয়ে থাকে।
- অকেজো হওয়ার পর এগুলোকে বায়ুমণ্ডলে ফিরিয়ে আনা হয়, যেখানে বায়ুর ঘর্ষণে এগুলো পুড়ে ছাই হয়ে যায়।
বর্তমানে মহাকাশে থাকা একটি স্টারলিঙ্ক ভি২ মিনি স্যাটেলাইটের ওজন প্রায় ৮০০ কেজি। প্রস্তাবিত ভি৩ মডেল একটি ছোট বিমানের সমান ভারী হতে পারে। বিজ্ঞানীদের ধারণা, ১০ লাখ স্যাটেলাইট যদি পর্যায়ক্রমে বায়ুমণ্ডলে পুড়ে ছাই হয়, তবে তা প্রায় এক টেরাগ্রাম বা ১০ লক্ষ টন অ্যালুমিনা কণা বাতাসে ছড়িয়ে দিতে পারে। এই বিশাল পরিমাণ রাসায়নিক ওপরের বায়ুমণ্ডলের তাপমাত্রা বৃদ্ধি এবং ওজোন স্তর ক্ষয়ে বড় ভূমিকা রাখতে পারে।
আরো পড়ুন: বাংলাদেশে কেন এত ভূমিকম্প হচ্ছে?
বায়ুমণ্ডলের পাশাপাশি মহাকাশেও চাপ বাড়ছে স্যাটেলাইটের। দ্য আউটার স্পেস ইনস্টিটিউটের ক্র্যাশ ক্লক অনুযায়ী, কক্ষপথে সক্রিয়ভাবে সংঘর্ষ এড়ানোর চেষ্টা বন্ধ করলে মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই স্যাটেলাইটগুলোর মধ্যে বড় ধরনের সংঘর্ষ ঘটতে পারে। যদিও সব স্যাটেলাইট বায়ুমণ্ডলে পুরোপুরি পুড়ে যায় না। কিছু টুকরা বা ধ্বংসাবশেষ ভূপৃষ্ঠেও আছড়ে পড়ে।
সূত্র: timesofindia.indiatimes.com

