এক অর্থে, আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর এই সভ্যতা বিদ্যুতের ওপরই টিকে আছে। একসময় রহস্যময় ও বিপজ্জনক এই শক্তিকে নিয়ন্ত্রণে আনার ফলেই আজ আমরা বিদ্যুৎ ব্যবহার করতে পারছি। তবে বিদ্যুতের ঝুঁকি পুরোপুরি দূর হয়নি। সামান্য অসাবধানতায় এখনও ভয়ংকর বৈদ্যুতিক শক লাগতে পারে, এমনকি মৃত্যু পর্যন্ত ঘটতে পারে।
{inAds}
অবাক করার মতো বিষয় হলো, ব্যাটারিতেও বিদ্যুৎ থাকে। এই বিদ্যুৎ দিয়েই মোবাইল ফোন, ল্যাপটপ থেকে শুরু করে বৈদ্যুতিক গাড়ি পর্যন্ত চলে। কিন্তু আমরা সাধারণত ব্যাটারি থেকে শক খাই না। রিমোটের ব্যাটারি পরিবর্তনের সময় আমরা সহজেই ব্যাটারির দুই প্রান্ত স্পর্শ করি। অথচ দেয়ালের সকেটে প্লাগ ঢোকাতে গেলে অনেকেই ভয় পান। এর কারণ কী?
{inAds}
ব্যাটারিতে সঞ্চিত বিদ্যুৎকে বলা হয় DC বা Direct Current। এটি শান্ত নদীর মতো, যা সবসময় একদিকে প্রবাহিত হয়। অন্যদিকে, আমাদের ঘরে যে বিদ্যুৎ আসে তাকে বলা হয় AC বা Alternating Current। এটি সমুদ্রের ঢেউয়ের মতো বারবার দিক পরিবর্তন করে। বাংলাদেশে এই পরিবর্তন প্রতি সেকেন্ডে ৫০ বার ঘটে।
{inAds}
আমাদের শরীরে প্রাকৃতিকভাবে একটি প্রতিরোধ থাকে, যাকে রেজিস্ট্যান্স বলা হয়। শুকনো ত্বকের রেজিস্ট্যান্স প্রায় ১০,০০০ থেকে ১,০০,০০০ ওহম হতে পারে। ঘরের বিদ্যুতের ভোল্টেজ প্রায় ২২০ ভোল্ট। এই ভোল্টেজ শরীরে প্রবেশ করলে তীব্র শক লাগে, পেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয় এবং মৃত্যু পর্যন্ত হতে পারে। তবে অনেকেই মনে করেন AC বিপজ্জনক আর DC নিরাপদ। বাস্তবে এই ধারণা ভুল। বিপদের মূল কারণ হলো ভোল্টেজ, বিদ্যুতের ধরন নয়। যদি DC ভোল্টেজ ৫০-৬০ ভোল্টের বেশি হয়, তাহলে সেটিও মারাত্মক বিপজ্জনক হয়ে উঠতে পারে।
{inAds}
AC বিদ্যুৎ প্রতি সেকেন্ডে দিক পরিবর্তন করে, ফলে পেশি বারবার সংকুচিত হয় এবং মানুষ ছিটকে যেতে পারে। কিন্তু DC বিদ্যুৎ একদিকে প্রবাহিত হয় এবং উচ্চ ভোল্টেজ হলে পেশিকে শক্ত করে ধরে রাখে। এতে হাত ছাড়ানো কঠিন হয়ে যায় এবং শরীরে পোড়া সৃষ্টি হতে পারে। এজন্য সৌর প্যানেল বা বৈদ্যুতিক গাড়ির ব্যাটারির সঙ্গে কাজ করার সময় প্রকৌশলীরা বিশেষ সতর্কতা অবলম্বন করেন।
{inAds}
বিদ্যুৎ কীভাবে মানুষকে ক্ষতি করে
বিদ্যুৎ শরীরের ভেতর দিয়ে প্রবাহিত হলে পেশি সংকুচিত হয়, স্নায়ুতন্ত্র ব্যাহত হয়, হৃদযন্ত্রের স্বাভাবিক ছন্দ নষ্ট হয় এবং শরীরের টিস্যু পুড়ে যেতে পারে। মাত্র ১-৫ মিলিঅ্যাম্পিয়ার কারেন্ট হালকা ঝাঁকুনি সৃষ্টি করে, ১০-২০ মিলিঅ্যাম্পিয়ার পেশিতে খিঁচুনি সৃষ্টি করে। ১০০ মিলিঅ্যাম্পিয়ার কারেন্ট হৃদযন্ত্রের মারাত্মক অনিয়ম সৃষ্টি করতে পারে, যাকে ventricular fibrillation বলা হয়।
{inAds}
ওহমের সূত্র অনুযায়ী, কারেন্ট = ভোল্টেজ ÷ রেজিস্ট্যান্স। অর্থাৎ ভোল্টেজ যত বেশি হবে, শরীর দিয়ে প্রবাহিত কারেন্ট তত বেশি হবে। তাই বিপদের মূল কারণ হলো উচ্চ ভোল্টেজ।
উদাহরণ হিসেবে বলা যায়, একটি সৌর প্যানেল সিস্টেমে ৩০০-৬০০ ভোল্ট DC উৎপন্ন হতে পারে। বৈদ্যুতিক গাড়ির ব্যাটারিতে ৪০০-৮০০ ভোল্ট DC থাকে। এই উচ্চ ভোল্টেজ শরীরের জন্য অত্যন্ত বিপজ্জনক।


Leave a Reply