বর্তমানে বাংলাদেশে অনেক সরকারি সেবা ধীরে ধীরে ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে চলে আসছে। সেই ধারাবাহিকতায় সাধারণ নাগরিকদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ একটি সেবা হলো অনলাইনে থানায় জিডি করার সুবিধা। আগে কোনো গুরুত্বপূর্ণ কাগজপত্র, মোবাইল ফোন, জাতীয় পরিচয়পত্র, পাসপোর্ট, সনদপত্র বা অন্য কোনো মূল্যবান জিনিস হারিয়ে গেলে সরাসরি থানায় গিয়ে জেনারেল ডায়েরি করতে হতো। এতে সময় লাগত, থানায় যেতে হতো এবং অনেক ক্ষেত্রে প্রক্রিয়া সম্পর্কে পরিষ্কার ধারণা না থাকায় সাধারণ মানুষ ভোগান্তিতে পড়তেন। কিন্তু এখন পরিস্থিতি অনেকটাই বদলেছে। বাংলাদেশ পুলিশের ডিজিটাল সেবার কারণে ঘরে বসেই মোবাইল ফোন বা কম্পিউটার ব্যবহার করে অনলাইনে জিডি আবেদন করা যায়। ফলে একজন নাগরিক খুব সহজে নিজের প্রয়োজনীয় তথ্য জমা দিয়ে হারানো বা ঘটনার বিষয়টি থানায় আনুষ্ঠানিকভাবে জানাতে পারেন। বিশেষ করে যারা ব্যস্ত, দূরে থাকেন বা জরুরি ভিত্তিতে দ্রুত প্রাথমিক রেকর্ড করতে চান, তাদের জন্য এই অনলাইন জিডি সেবা অনেক বেশি কার্যকর।

তবে অনলাইনে জিডি করার ক্ষেত্রে শুধু একটি ফরম পূরণ করলেই সব শেষ নয়। কোন ক্ষেত্রে অনলাইনে জিডি করা যায়, কী কী তথ্য লাগে, কীভাবে আবেদন করতে হয়, জিডি নম্বর কীভাবে পাওয়া যায় এবং আবেদন করার সময় কোন ভুলগুলো এড়াতে হবে—এসব বিষয় আগে থেকে জানা থাকলে পুরো প্রক্রিয়া অনেক সহজ হয়ে যায়।
অনলাইনে থানায় জিডি করার ধাপ
অনলাইনে জিডি করার পুরো প্রক্রিয়াটি সহজ হলেও প্রতিটি ধাপ সতর্কতার সঙ্গে সম্পন্ন করা উচিত। প্রথমে বাংলাদেশ পুলিশের অনলাইন জিডি সেবার নির্ধারিত প্ল্যাটফর্ম বা মোবাইল অ্যাপে প্রবেশ করতে হবে। https://gd.police.gov.bd/ অথবা বর্তমানে গুগল প্লে স্টোরে “Online GD” লিখে সার্চ করলে বাংলাদেশ পুলিশের অফিসিয়াল অ্যাপ পাওয়া যায়, সেটি ইনস্টল করতে হবে। অ্যাপটি ওপেন করার পর নিবন্ধন বা রেজিস্ট্রেশন অপশনে ক্লিক করতে হবে। এরপর মোবাইল নম্বর দিতে হয় এবং সেই নম্বরে একটি ওটিপি কোড পাঠানো হয়। ওটিপি যাচাই করার পর পরিচয় যাচাই করতে হয়, অনেক ক্ষেত্রে এনআইডি যাচাই এবং ফেস ভেরিফিকেশন করতে হতে পারে। এরপর প্রয়োজনীয় ব্যক্তিগত তথ্য পূরণ করে একটি ডিজিটাল সিগনেচার দিয়ে অ্যাকাউন্ট তৈরি করতে হয়। অ্যাকাউন্ট তৈরি হয়ে গেলে আইডি ও পাসওয়ার্ড দিয়ে লগইন করে ড্যাশবোর্ডে প্রবেশ করা যায়।
আরো পড়ুন: পেপ্যাল বাংলাদেশে কি এবার আসতে চলেছে!
লগইন করার পর “নতুন জিডি” বা জিডি আবেদন অপশন নির্বাচন করতে হয়। এরপর ঘটনার ধরন নির্বাচন করতে বলা হয়, যেমন মোবাইল হারানো, এনআইডি হারানো, পাসপোর্ট হারানো বা অন্যান্য কাগজপত্র হারানো। এরপর আবেদনকারীর ব্যক্তিগত তথ্য যেমন নাম, মোবাইল নম্বর, ঠিকানা এবং জাতীয় পরিচয়পত্র নম্বর সঠিকভাবে পূরণ করতে হয়। এরপর ঘটনার বিস্তারিত বর্ণনা লিখতে হয়। এখানে কী হারিয়েছে, কোথায় হারিয়েছে, কখন হারানোর বিষয়টি জানা যায় এবং কোনো বিশেষ নম্বর বা পরিচয়চিহ্ন থাকলে তা উল্লেখ করা উচিত। সব তথ্য পূরণ করার পর আবার ভালোভাবে যাচাই করে আবেদন সাবমিট করতে হয়।
