
অনলাইন জগতটা অনেকটা বালির ওপর আঁকা ছবির মতো। সমুদ্রের ঢেউ যেমন বালির লেখা মুছে দেয়, ডিজিটাল দুনিয়াতেও কোনো কিছু স্থায়ী নয়। সার্ভার ক্র্যাশ বা হ্যাকারের কারণে প্রিয় ওয়েবসাইট বা স্মৃতি যেকোনো সময় হারিয়ে যেতে পারে। প্রযুক্তি
উদাহরণস্বরূপ, ২০১৯ সালে মাইস্পেস তাদের সার্ভার বদলানোর সময় ভুল করে ৫ কোটি গান চিরতরে মুছে ফেলেছিল। ফলে ১৪ মিলিয়ন শিল্পীর কাজ আর ফিরে পাওয়া সম্ভব হয়নি। কিন্তু ‘ইন্টারনেট আর্কাইভ’ এই ডিজিটাল বিস্মৃতি রুখতে লড়াই করছে। সম্প্রতি এই অলাভজনক প্রতিষ্ঠানটি ১ ট্রিলিয়ন বা ১ লক্ষ কোটি ইউআরএল সংরক্ষণের এক বিশাল মাইলফলক ছুঁয়েছে। ১৯৯৬ সালে ব্রুস্টার কেল এটি প্রতিষ্ঠা করেন যাতে ইন্টারনেটের ইতিহাসের একটি স্থায়ী রেকর্ড থাকে। তাদের জনপ্রিয় ‘ওয়েব্যাক মেশিন’ মূলত একটি ডিজিটাল টাইম মেশিন।
এর মাধ্যমে আপনি ২০ বছর আগের প্রথম আলো বা বিবিসি বাংলার ওয়েবসাইট অনায়াসেই দেখতে পারেন। গবেষক ও সাংবাদিকদের জন্য এটি একটি অমূল্য ভাণ্ডার। এখন পর্যন্ত তাদের সংগ্রহে ৪ কোটি বই, ১ কোটি ৫০ লাখ অডিও এবং ১ কোটি ভিডিও রয়েছে। সব মিলিয়ে তাদের কাছে প্রায় ১০০ পেটাবাইট ডেটা জমা আছে। বর্তমানে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার উত্থানের ফলে তাদের কাজ কিছুটা কঠিন হয়ে পড়ছে। তবুও আশা করা যায় যে, আইনি জটিলতা কাটিয়ে তারা শীঘ্রই ২ ট্রিলিয়ন ওয়েবসাইটের লক্ষ্য পূরণ করবে। এই বিশাল ডিজিটাল ইকোসিস্টেমকে বাঁচিয়ে রাখতে এর কোনো বিকল্প নেই। science magazine
