NFC Mobile

বর্তমানে বাংলাদেশের গুগল পে চালু হয়েছে। কিন্তু সবাই জানিনা কিভাবে এটা প্রয়োগ করতে হয়। বাংলাদেশের অধিকাংশ মানুষের মোবাইল ফোনে NFC সাপোর্টেড নেই। তাই গুগল পের এর মাধ্যমে লেনদেন করা সম্ভব হচ্ছেনা। ইতিমধ্যেই সিটি ব্যাংকের মাধ্যমে এই সেবা চালু হয়েছে। কিন্তু অধিকাংশ মানুষই লেনদেন করতে পারছে না এনএফসি সাপোর্টেড মোবাইল ফোন না থাকার কারণে। আজ আমরা জানবো এই এনএফসি কি আসলে?


বর্তমানে অতি দ্রুত জনপ্রিয় হয়েছে এমন একটি তারবিহীন যোগাযোগ প্রযুক্তির নাম এনএফসি (NFC-Near Field Communications); যা ২০০৪ সালে সনি, নকিয়া ও ফিলিপস্ কর্তৃক প্রতিষ্ঠিত “NFC Forum” এর প্রচেষ্টার ফসল।


এনএফসি বা নিয়ার ফিল্ড কমিউনিকেশন হলো রেডিও সিগন্যাল ব্যবহার করে খুব কাছাকাছি দূরত্বের (৪ সেন্টিমিটার থেকে সর্বোচ্চ ১০ সেন্টিমিটার) দুইটি ডিভাইস বা বস্তু পরস্পর নিজেদের মধ্যে তারবিহীন (ওয়‍্যারলেস) ডেটা যোগাযোগ করার এক সেট প্রটোকল। এই প্রোটকল ব্যবহার করে সর্বোচ্চ ৪২৪ কিলোবিট/সেকেন্ড গতিতে ডেটা বিনিময় করা যায়। এটি আরএফআইডি (RFID- Radio-Frequency IDentification) প্রযুক্তি ব্যবহার করে ১৩.৫৬ মেগাহার্জ ব্যান্ডে ডেটা যোগাযোগ করে।

এনএফসি টেকনোলজিসমৃদ্ধ ডিভাইস বলতে স্মার্টফোন, ডিজিটাল ক্যামেরা, টেলিভিশন, টার্মিনাল, ক্রেডিট/ডেবিট কার্ড, টিকেট ইত্যাদিকে বুঝায়। ইদানিং এই প্রটোকল ব্যবহার করে যোগাযোগ করার বিষয়টি জনপ্রিয় হচ্ছে। একটি এনএফসি চিপে স্বল্প পরিমান প্রয়োজনীয় ডেটা সংরক্ষণ করতে পারে। সফল যোগাযোগের জন্য এনএফসি সমৃদ্ধ ডিভাইস বা বস্তুদ্বয় ৪ সেন্টিমিটার দূরত্বের মধ্যে স্থাপন করা হয় অথবা একে অপরকে স্পর্শ করে। যেসকল ডিভাইস এনএফসি টেকনোলজি ব্যবহার করে সেগুলো সক্রিয় বা এ্যাকটিভ (Active) এবং নিষ্ক্রিয় বা প্যাসিভ (Passive) হতে পারে। নিষ্ক্রিয় বা প্যাসিভ (Passive) ডিভাইসে তথ্য সংরক্ষণ করা থাকে যা অন্য কোন ডিভাইস পড়তে পারে; তবে ঐ ডিভাইস নিজে তার মধ্যে সংরক্ষিত তথ্য পড়তে পারে না। উদাহরণস্বরূপ সাইনবোর্ডের কথা ধরা যেতে পারে। সাইনবোর্ড তার মধ্যে সংরক্ষিত তথ্য অন্যকে প্রকাশ করতে পারে কিন্তু নিজে এই তথ্য ব্যবহার বা প্রক্রিয়া করতে পারে না।


সক্রিয় বা এ্যাকটিভ (Active) ডিভাইস তথ্য সংরক্ষণ করতে পারে, অন্য ডিভাইসের তথ্য পড়তে পারে এবং প্রয়োজনে তথ্য ট্রান্সমিট বা প্রেরণ এবং তথ্য বিনিময়ও করতে পারে। তথ্যের নিরাপত্তা নিশ্চিত কল্পে এনএফসি সিকিউর চ্যানেল স্থাপন করে ডেটা কমিউনিকেশন করে এবং ডেটা এনক্রিপশন প্রযুক্তি ব্যবহার করে। এনএফসি সমৃদ্ধ কোন ডিভাইস চুরি হলেও যাতে অন্য কেহ ব্যবহার করতে না পারে সেজন্য এতে পাসওয়ার্ড ব্যবহার করা যেতে পারে। বর্তমানে মোবাইল ফোন, ক্রেডিট বা ডেবিট কার্ড, বিভিন্ন ধরনের টোল পরিশোধের কার্ড ইত্যাদিতে এই প্রযুক্তির ব্যাপক ব্যবহার লক্ষ্য করা যায়।


এনএফসি প্রযুক্তি সমৃদ্ধ দুটি ডিভাইস বা বস্তু পরস্পর এই প্রটোকল ব্যবহার করে যোগাযোগ করার জন্য একটিতে অবশ্যই এনএফসি রিডার/রাইটার (NFC reader/writer) ও অপরটিতে এনএফসি ট্যাগ (NFC tag) থাকতে হবে। এনএফসি রিডার/রাইটার (NFC reader/writer) একটি সক্রিয় বা এ্যাকটিভ (Active) ডিভাইস যা এনএফসি ট্যাগের সাথে যোগাযোগ করার জন্য রেডিও সিগন্যাল তৈরি করে। অন্যদিকে এনএফসি ট্যাগ (NFC tag) একটি নিষ্ক্রিয় বা প্যাসিভ (Passive) ডিভাইস যা নিকটস্থ সক্রিয় ডিভাইসের ম্যাগনেটিক ফিল্ড থেকে শক্তি পায়। এটি একটি পাতলা ডিভাইস যাতে একটি চিপ, মেমরি ও অ্যান্টেনা থাকে।

এনএফসি প্রযুক্তির ব্যবহার

ডেবিট/ক্রেডিট কার্ডে

টোল প্লাজায় টোল পরিশোধের কার্ডে

স্বাস্থ্য সংক্রান্ত বিভিন্ন তথ্য সংরক্ষণ করতে হেলথ কার্ডে

বাস/ট্রেনের ভাড়া পরিশোধের কার্ডে ইত্যাদি।

বাংলাদেশে ব্যবহার

বাংলাদেশে এন.এফ.সি প্রযুক্তি চালু করতে হলে আপনাকে এনএফসি সাপোর্টেড মোবাইল ফোন কিনতে হবে বা ব্যবহার করতে হবে। তাহলে আপনি গুগল পে এর মাধ্যমে সহজে লেনদেন করতে পারবেন। তাহলে আপনাকে ডেবিট কার্ড বহন করা লাগবে না সরাসরি মোবাইলের মাধ্যমে নিয়ন্ত্রণ করতে পারবেন।


Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *