বাংলাদেশে দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর আন্তর্জাতিক পেমেন্ট গেটওয়ে পেপ্যাল শিগগিরই কার্যক্রম শুরু করতে যাচ্ছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর ড. আহসান এইচ মনসুর নিশ্চিত করেছেন যে পেপ্যাল চালু হলে দেশের ক্ষুদ্র উদ্যোক্তা ও ফ্রিল্যান্সাররা সহজে আন্তর্জাতিক বাজারে যুক্ত হতে পারবে।

পেপ্যাল বাংলাদেশে


বিশ্বের দুই শতাধিক দেশে ব্যবহৃত এই ডিজিটাল পেমেন্ট প্ল্যাটফর্ম অনলাইনে টাকা পাঠানো, গ্রহণ, বিল পরিশোধ এবং আন্তর্জাতিক কেনাকাটাকে সহজ ও নিরাপদ করে তোলে। ১৯৯৮ সালে যাত্রা শুরু করা পেপ্যাল বর্তমানে ৩৬০ মিলিয়নেরও বেশি ব্যবহারকারীর আস্থার নাম এবং ঐতিহ্যবাহী ব্যাংকিং ভোগান্তি কমাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।

ফ্রিল্যান্সারদের জন্য পেপ্যাল গুরুত্বপূর্ণ কারণ এর মাধ্যমে তারা আন্তর্জাতিক ক্লায়েন্টদের কাছ থেকে দ্রুত, নিরাপদে ও ঝামেলাহীনভাবে পারিশ্রমিক গ্রহণ করতে পারে, যেখানে অন্যান্য পদ্ধতিতে একই লেনদেন অনেক বেশি জটিল। পেপ্যাল থেকে সরাসরি বিকাশে টাকা পাঠানো যায় না, মাঝখানে থার্ড-পার্টি গেটওয়ে লাগে। লেনদেন করতে ব্যাংক অ্যাকাউন্ট বা কার্ড যুক্ত করা বাধ্যতামূলক। পেপ্যাল অ্যাকাউন্টে টাকা যোগ করার প্রধান উপায় হলো ক্লায়েন্ট বা আন্তর্জাতিক মার্চেন্টদের কাছ থেকে পেমেন্ট গ্রহণ।

ব্যক্তিগত লেনদেনে সাধারণত চার্জ নেই, তবে ব্যবসায়িক লেনদেনে নির্দিষ্ট ফি প্রযোজ্য। পেপ্যাল ক্রেডিট একটি ভার্চুয়াল ক্রেডিট সার্ভিস, যা বাস্তব কার্ড না হলেও অনলাইন পেমেন্টে ব্যবহারযোগ্য। আন্তর্জাতিক আয় বা রেমিট্যান্সের ক্ষেত্রে জুম জনপ্রিয় হলেও ফ্রিল্যান্সিং পেমেন্টের জন্য পেপ্যালই সবচেয়ে কার্যকর সমাধান। ছোট উদ্যোক্তারা পেপ্যাল চালু হলে এলসি খোলার ঝামেলা ছাড়াই ক্ষুদ্র চালানে পণ্য রপ্তানি করে দ্রুত অর্থ দেশে আনতে পারবে।

আরো পড়ুন

বর্তমানে দেশে আন্তর্জাতিক লেনদেনে ওয়্যার ট্রান্সফার, পেওনিয়ার ও ব্যাংকিং চ্যানেল ব্যবহৃত হচ্ছে। পেপ্যাল ইনস্ট্যান্ট ব্যাংক ট্রান্সফার সুবিধা দিলেও সামান্য চার্জ থাকে, আর সাধারণ ট্রান্সফারে ২ থেকে ৩ দিন সময় লাগে। পেপ্যাল মূলত ব্যাংক ও মার্চেন্টের মধ্যস্থতাকারী প্ল্যাটফর্ম হিসেবে কাজ করে। অ্যাকাউন্ট খুলতে কোনো খরচ লাগে না এবং ব্যাংক বা কার্ড যুক্ত করলেই অনলাইনে নিরাপদ লেনদেন সম্ভব। বন্ধু বা পরিবারের মাঝে টাকা পাঠাতে চার্জ নেই, তবে সার্ভিস বা কেনাকাটায় ফি দিতে হয়। ব্যক্তিগত এবং ব্যবসায়িক দুই ধরনের অ্যাকাউন্ট খুলে ব্যবহার করা যায়।

বর্তমানে বাংলাদেশে অফিসিয়ালভাবে পেপ্যাল অ্যাকাউন্ট খোলা যায় না, তবে এ বিষয়ে নতুন অগ্রগতির ইঙ্গিত মিলেছে। অতীতে বহুবার প্রতিশ্রুতি এলেও সেবা চালুর কাজ বাস্তবায়িত না হওয়ায় ফ্রিল্যান্সাররা হতাশ হয়েছেন, বিশেষত ২০১৭ সালের স্থগিত ঘোষণার পর। পেপ্যালের সহযোগী প্রতিষ্ঠান জুম সীমিত সেবা দিলেও সরাসরি ক্লায়েন্ট পেমেন্টের জন্য এটি যথেষ্ট নয়। তাই ফ্রিল্যান্সার ও উদ্যোক্তা সমাজ বহুদিন ধরেই পেপ্যালের পূর্ণ সেবা চালুর অপেক্ষায়। ‘অ্যাগ্রো অ্যাওয়ার্ড ২০২৫’-এর অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে গভর্নর আবারো জানান, পেপ্যাল বাংলাদেশে ব্যবসা করতে আগ্রহী এবং খুব শিগগিরই সম্পূর্ণ সেবা চালুর সম্ভাবনা রয়েছে।

পেপ্যাল মূলত ব্যবহারকারীর ব্যাংক বা কার্ডের সঙ্গে যুক্ত হয়ে অনলাইনে টাকা পাঠানো, গ্রহণ, বিল পরিশোধ ও কেনাকাটার সুবিধা দেয়। এর প্রধান সুবিধা হলো দ্রুত আন্তর্জাতিক লেনদেন, উচ্চ নিরাপত্তা এবং ফ্রিল্যান্সারদের জন্য সুবিধাজনক পেমেন্ট গ্রহণ ব্যবস্থা। অসুবিধার মধ্যে রয়েছে ব্যবসায়িক লেনদেন বা ইনস্ট্যান্ট ট্রান্সফারে ফি প্রযোজ্য হওয়া। বাংলাদেশে পেপ্যাল এখনো পুরোপুরি চালু না হলেও শিগগিরই আসার আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন গভর্নর ড. আহসান এইচ মনসুর, যা ফ্রিল্যান্সিং খাতে নতুন সম্ভাবনার দরজা খুলে দেবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *