১৪টি বোয়িং ৭৮৭ ড্রিমলাইনার ও ৭৩৭ ম্যাক্স জেট কিনছে বাংলাদেশ

১৪টি বোয়িং ৭৮৭ ড্রিমলাইনার ও ৭৩৭ ম্যাক্স জেট কিনছে বাংলাদেশ

Hossain Hawlader
লেখকঃ Hossain Hawlader
3 মিনিট পড়তে লাগবে

যুক্তরাষ্ট্রের আকাশযান নির্মাতা প্রতিষ্ঠান বোয়িংয়ের সঙ্গে নতুন চুক্তির আওতায় বোয়িং থেকে ১০টি ৭৮৭ ড্রিমলাইনার ও ৪টি ৭৩৭ ম্যাক্স জেটসহ মোট ১৪টি উড়োজাহাজ কিনতে যাচ্ছে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনস। ১০টি বোয়িং ৭৮৭ ড্রিমলাইনারের মধ্যে মধ্যপ্রাচ্যের মতো উচ্চ চাহিদাসম্পন্ন রুটে ব্যবহারের জন্য ৭৮৭-১০ মডেলের ৮টি, ইউরোপ ও উত্তর আমেরিকা রুটে ব্যবহারের জন্য ৭৮৭-৯ মডেলের ২টি এবং মধ্যপ্রাচ্য, ভারত ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া রুটে চলাচলের জন্য প্রথমবারের মতো ৭৩৭-৮ মডেলের ৪টি ম্যাক্স জেট কিনছে বিমান বাংলাদেশ। এ প্রসঙ্গে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের ম্যানেজিং ডিরেক্টর ও সিইও কাইজার সোহেল আহমেদ বলেন, “জ্বালানি-সাশ্রয়ী ও আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর এই উড়োজাহাজগুলো বিমান বাংলাদেশের কার্যকারিতা বৃদ্ধি, পরিচালন দক্ষতা উন্নত এবং আন্তর্জাতিক রুট নেটওয়ার্ক আরও বিস্তৃত করবে। আমাদের এই সিদ্ধান্তটি বৈশ্বিক বিমান পরিবহন বাজারে বাংলাদেশের অবস্থান আরও শক্তিশালী করে তুলবে বলে আমি আশাবাদী।” বর্তমানে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের কাছে বোয়িংয়ের ১৪টি উড়োজাহাজ রয়েছে, যার মধ্যে বোয়িং ৭৮৭-৮, বোয়িং ৭৮৭-৯, বোয়িং ৭৭৭ এবং নেক্সট জেনারেশন বোয়িং ৭৩৭ মডেল উল্লেখযোগ্য। নতুন আরও ১৪টি উড়োজাহাজ কেনার সিদ্ধান্ত যাত্রী ও কার্গো পরিবহন সক্ষমতা উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি করার পাশাপাশি জ্বালানি ব্যবহার আরও সাশ্রয়ী করবে বলে আশা করা হচ্ছে। ৭৩৭-৮ মডেলটি বিমানের পুরোনো ও ছোট আকারের উড়োজাহাজগুলোর পরিবর্তে আধুনিক বিকল্প হিসেবে কাজ করবে এবং পার্শ্ববর্তী দেশগুলোতে যাত্রী পরিবহনের চাপ মোকাবিলায় সহায়ক হবে। অন্যদিকে ৭৩৭ ম্যাক্স ও ৭৮৭ সিরিজের নতুন মডেলগুলো আগের তুলনায় প্রায় ২০ থেকে ২৫ শতাংশ জ্বালানি সাশ্রয় করবে, ফলে আর্থিক ব্যয়ও কমবে। বোয়িংয়ের কমার্সিয়াল সেলস ও মার্কেটিং বিভাগের ইউরেশিয়া, ভারত ও দক্ষিণ এশিয়া রিজনের ভাইস প্রেসিডেন্ট পল রিঘি বলেন, বোয়িং ও বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের মধ্যকার এই নতুন চুক্তিতে আমরা অত্যন্ত আনন্দিত। ৭৮৭-১০ মডেলটি বিমানের বিদ্যমান ৭৮৭ ক্যাটাগরিতে সহজে সমন্বয়যোগ্য এবং ৭৩৭-৮ মডেলটি বর্তমান ৭৩৭ মডেলের মতোই, যা আঞ্চলিক রুটে অত্যন্ত কার্যকর ও জ্বালানি সাশ্রয়ী। বিমানের এই সিদ্ধান্ত আধুনিকায়ন, রুট সম্প্রসারণ ও সেবার মানোন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে আমার বিশ্বাস। বোয়িং ৭৮৭-১০ মডেলের মতো বোয়িং ৭৮৭-৯ ও বোয়িং ৭৮৭-৮ সিরিজের উড়োজাহাজগুলো যাত্রীদের জন্য আরামদায়ক ভ্রমণ অভিজ্ঞতা নিশ্চিত করবে। এই মডেলগুলোয় বৃহদাকারের জানালা থাকায় বাইরের দৃশ্য হবে আরও উপভোগ্য, কেবিনের ভেতরের বাতাস থাকবে কম শুষ্ক এবং কেবিনে কম উচ্চতায় চাপও তুলনামূলকভাবে স্বাভাবিক থাকবে। এছাড়া এর উন্নত প্রযুক্তি টার্বুলেন্স শনাক্ত করে ঝাঁকুনির প্রভাব কমাতে সাহায্য করবে, ফলে যাত্রা হবে আরও স্বাচ্ছন্দ্যময়। বর্তমানে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনস ঢাকা থেকে বিশ্বের ২২টি আন্তর্জাতিক গন্তব্যে ফ্লাইট পরিচালনা করছে, যার মধ্যে মধ্যপ্রাচ্য, দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া এবং ইউরোপের গুরুত্বপূর্ণ শহরগুলো রয়েছে। বর্তমানে ৭৮৭-৯ উড়োজাহাজে ঢাকা থেকে টরন্টো পর্যন্ত ইস্তানবুল হয়ে সবচেয়ে দীর্ঘ রুটে ফ্লাইট পরিচালনা করা হচ্ছে। বোয়িংয়ের কমার্সিয়াল মার্কেট আউটলুক অনুযায়ী আগামী ২০ বছরে দক্ষিণ এশিয়ার ওয়াইডবডি উড়োজাহাজের চাহিদা তিন গুণেরও বেশি বৃদ্ধি পাবে, ফলে লাখো যাত্রী এই রিজনের এয়ারলাইনগুলোয় মধ্যপ্রাচ্য, ইউরোপ ও উত্তর আমেরিকার মতো গন্তব্যে ভ্রমণ করবে এবং ভবিষ্যতে বিমান চলাচলে বড় ধরনের সম্প্রসারণ দেখা যাবে, যেখানে বাংলাদেশও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

শেয়ার করুন
লেখকঃHossain Hawlader
অনুসরণ করুন
আমি হোসাইন হাওলাদার। আমি mehrab360.com এ একজন সম্পাদক হিসেবে কাজ করছি। আমি সরকারি ব্রজলাল কলেজ, খুলনা এর পদার্থবিজ্ঞান বিভাগের ছাত্র। ইমেইল: [email protected]
মন্তব্য করুন