ঢাকা সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটির কেন্দ্রীয় ক্যাম্পাস এবং সংযুক্ত বা অধিভুক্ত কলেজের শিক্ষার্থীদের প্রাতিষ্ঠানিক পরিচয়, ইনকোর্স পরীক্ষা এসব নিয়ে তালগোল পাকিয়ে ফেলেছেন। ঢাকা সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটির (ডিসিইউ) ভিসি অধ্যাপক ড. মো. নুরুল ইসলাম বলে মন্তব্য করেছেন ঢাকা কলেজের সাবেক অধ্যক্ষ ও সাত কলেজের প্রথম সমন্বয়ক আই কে সেলিম উল্লাহ খোন্দকার। বুধবার (১৩ মে) সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে এক পোস্টে এসব কথা বলেছেন সেলিম উল্লাহ খোন্দকার।
শিক্ষার্থীদের দীর্ঘদিনের দাবি ও প্রত্যাশা অনুযায়ী ঢাকা সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটি অধ্যাদেশ জারি হয়েছে। আবার ঢাকার সরকারি ৭ (সাত) কলেজের স্বতন্ত্রতাও রক্ষা হয়েছে। কেন্দ্রীয় ক্যাম্পাস ও সংযুক্ত সরকারি ৭ (সাত) কলেজে আলাদা আলাদা শিক্ষার্থী ভর্তি হবে। অথচ এর কোনো আয়োজন এখনো হয়নি বা বিশ্ববিদ্যালয় মন্জুরি কমিশন করেনি। অধ্যাদেশ অনুসারে নিজস্ব স্হায়ী ক্যাম্পাস স্হাপনের পূর্বে ভাড়া বাড়িতে এর কার্যক্রম শুরু করার কথা।কেন্দ্রীয় ক্যাম্পাসে কি কি বিষয়ে শিক্ষার্থী ভর্তি হবে তাও চূড়ান্ত হয় নি বা ঘোষণা হয় নি। মেধাবী শিক্ষক নিয়োগে কোনো উদ্যোগ নেই।
আগে শিক্ষার্থীদের হাজার হাজার কোটি টাকার উন্নয়ন হবে বলে এমন আশ্বাস দিয়েছিলো বিশ্ববিদ্যালয় মন্জুরি কমিশনের সাবেক চেয়ারম্যান ও জনৈক সদস্য (পরে অপসারিত) সহ অনেকেই।অথচ অধ্যাদেশ জারির এতদিন পরও, ঢাকা সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটি’র সম্মানিত উপাচার্যের বসার জন্য একটি অফিস ভাড়া হয় নি। এখনো তিনি উদ্বাস্তু, মন্জুরি কমিশনে বসেন। কেন্দ্রীয় ক্যাম্পাসের জন্য বাড়ি ভাড়া, শিক্ষক ও কর্মচারি নিয়োগ, বিষয় অনুমোদন কিছুই হচ্ছে না। ফলে এবছর কেন্দ্রীয় ক্যাম্পাসের জন্য শিক্ষার্থী ভর্তি অনিশ্চিত, মানে সুযোগই নেই।
শিক্ষার্থীদের সুযোগ -সুবিধা বৃদ্ধির যে আশ্বাস বা প্রতিশ্রুতি ছিলো, সবই ছিলো ফাঁকা বুলি। এখন এসবে কারো কোনো মাথাব্যথা নেই। এমনিতেই বিগত সময়ের রাজনৈতিক কারণ ও বিশ্ববিদ্যালয় নিয়ে আন্দোলন করতে গিয়ে শিক্ষার বেশ ক্ষতি হয়েছে। আবারো এসব ইস্যুতে তাদের যদি রাস্তায় নামানোর চেষ্টা চলে, তা হবে দুঃখজনক! ১৩ মে বুধবার ঢাকার সংযুক্ত ৭ কলেজের অধ্যক্ষ ও শিক্ষক প্রতিনিধিদের নিয়ে ভর্তি বিষয় আলোচনা ও সিদ্ধান্ত হবে। কেবল সংযুক্ত ৭ কলেজের জন্য ভর্তির সিদ্ধান্ত হলে ভর্তি বিজ্ঞপ্তি ও নোটিশে তা সুস্পষ্ট উল্লেখ করতে হবে। কেন্দ্রীয় ক্যাম্পাসের জন্য এবছর শিক্ষার্থী ভর্তি হবে না, তাও সুনির্দিষ্ট করতে হবে। নতুবা পরে সংযুক্ত কলেজে ভর্তিকৃত শিক্ষার্থীরা গত ব্যাচের মতো কেন্দ্রীয় ক্যাম্পাসের শিক্ষার্থী দাবি করতে পারে।
এখনো সুনির্দিষ্ট হয়নি, ওরা কেন্দ্রীয় ক্যাম্পাস নাকি সংযুক্ত কলেজের শিক্ষার্থী ?? তাদের পরিচয় পত্র, ইনকোর্স পরীক্ষা এসব নিয়ে তালগোল পাকিয়ে ফেলেছেন মাননীয় উপাচার্য। শিক্ষক-শিক্ষার্থী আবারো মুখোমুখি হউক, এটি কারো কাম্য নয়। তাদের পারস্পরিক পবিত্র সম্পর্ক নষ্ট হউক, আমরা চাই না।গত কিছুদিনের ঘটনাপ্রবাহ লক্ষ করলে স্পষ্ট হয়, শিক্ষাঙ্গনে অস্হিরতা সৃষ্টির চেষ্টা রয়েছে। যুদ্ধ, জ্বালানি সংকট, হামে শিশু মৃত্যু সব মিলে এমনিতেই এক ধরনের অস্থিরতা বিরাজ করছে। নতুন করে যাতে অস্হিরতা সৃষ্টি না হয়, এবং কেউ যেন এর সুযোগ নিতে না পারে, সেদিকে সবাইকে খেয়াল রাখতে হবে এবং দায়িত্বশীল ভূমিকা রাখতে হবে।