বর্ষাকালে যখন প্রচুর বৃষ্টিপাত হয়, তখন বাসার বাইরে যাওয়া কষ্টসাধ্য ব্যাপার হয়ে দাড়ায়। তখন আমাদের ছাতা নিয়ে বের হতে হয়। আবার এই মৌসুমে কোনো অনুষ্ঠান হলে, তাবুর কাপড় টানানো হয়। একন অনেকের প্রশ্ন থাকতে পারে, এই ছাতা বা তাবুর কাপড় ভিতর দিয়ে, পানি প্রবেশ করতে পারেনা কেন?

ছাতার কাপড়, তাবুর কাপড়ের যে ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র ছিদ্র থাকে, তার মধ্য দিয়ে বায়ু সহজে, চলাচল করতে পারলেও বৃষ্টির পানি সহজে, প্রবেশ করতে পারেনা। এর কারণ হলো, বৃষ্টির পানি পৃষ্ঠটানের জন্য ছোট, ছোট গোলাকার বিন্দুর আকার ধারণ এবং কাপড়ের, ওপর দিয়ে গড়িয়ে পড়ে যায়। এখন প্রশ্ন হতে পারে পৃষ্ঠটান কি?
আরো পড়ুন: পারমাণবিক ফিশনে অবদান, নোবেল বঞ্চিত এক বিজ্ঞানী
পৃষ্ঠটান কি?
কোন তরলের পৃষ্ঠের একটি সরলরেখা কল্পনা করলে উক্ত রেখার প্রতি একক দৈর্ঘ্যের ওই রেখার উভয় পাশে রেখার সাথে লম্বভাবে এবং স্পর্শিনী বল ক্লিয়া করে তাকে পৃষ্ঠটান বলে।
পৃষ্ঠটান = বল/দৈঘ্য
আমরা সকলেই লক্ষ করে থাকি যে মশা, মাকড়সা ইত্যাদি কীটপতঙ্গ পানির ওপরে হেঁটে চলতে পারে। একটু পর্যবেক্ষণ করলেই দেখা যাবে যে, যেখানে এদের পা পড়ে তরলের সেই স্বানটুকু একটু নিচু বা অবনমিত হয়। কিছুটা যেন রবারের পর্দাকে চাপ দিলে যেরূপ হয় সেরূপ। এ ছাড়া কোনো সিরিঞ্জের সুচের মাথা দিয়ে খুব আস্তে -আস্তে তরল ওষুধ বা পানি নির্গত করলে দেখা যায় যে তরল বা পানি নিরবচ্ছিন্নভাবে বের না হয়ে ফোঁটায় ফোঁটায় বের হচ্ছে এবং ফোঁটাগুলো সম্পূর্ণ গোলাকার। আমরা জানি একই আয়তনের সর্বনিম্ন ক্ষেত্রফল হলো গোলাকার আকৃতির। ভরলের মুক্ত পৃষ্ঠে নিশ্চয়ই কোনো বল ক্রিয়াশীল রয়েছে যা ফোঁটাগুলো গোলাকার রাখছে। কাজেই তরলের মুক্ত পৃষ্ঠে, স্থিতিস্থাপক পর্দার টানের ন্যায় একটা টান ক্রিয়া করে। উক্ত টান তরল পৃষ্ঠের স্পর্শক অভিমুখী। তরল পৃষ্ঠ যেখানে এসে শেষ হয় সেখানেই পৃষ্ঠের সীমারেখায় পৃষ্ঠটান ক্রিয়া করে।
সূত্র: Google.com

