ইরান হরমুজ প্রণালি নিচে সাবমেরিন ক্যাবল কেটে ফেললে কী হবে

ইরান হরমুজ প্রণালি নিচে সাবমেরিন ক্যাবল কেটে ফেললে কী হবে

Hossain Hawlader
লেখকঃ Hossain Hawlader
2 মিনিট পড়তে লাগবে
হরমুজ প্রণালি
ছবি: রয়টার্স

চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতিতে বিশ্ববাণিজ্যের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ হরমুজ প্রণালিতে কঠোর নিয়ন্ত্রণ আরোপ করেছে ইরান। এর ফলে বিশ্বজুড়ে ভয়াবহ জ্বালানিসংকটের আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। জ্বালানি তেল পরিবহনের জন্য বিশ্বের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালির পানির নিচে বিশ্বব্যাপী ইন্টারনেট ট্রাফিক পরিচালনা করা একাধিক সাবমেরিন কেব্‌লও রয়েছে। তাই ইরান হরমুজ প্রণালির নিচে থাকা সাবমেরিন ক্যাবল কেটে ফেললে বিভিন্ন দেশে ইন্টারনেট বিভ্রাট ও আর্থিক ব্যবস্থা বিপর্যস্ত হতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

হরমুজ প্রণালির পাশাপাশি লোহিত সাগরের বাব এল-মানদেব প্রণালির নিচেও একাধিক সাবমেরিন কেব্‌ল রয়েছে। ফলে ইরান নিজেদের মদদপুষ্ট হুতিদের দ্বারা বাব এল-মানদেব প্রণালির নিচে থাকা সাবমেরিন কেব্‌লগুলোও কেটে ফেলতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। এরই মধ্যে ইরান লোহিত সাগরের তলদেশে থাকা ইন্টারনেট কেব্‌ল কেটে ফেলার হুমকি দিয়েছে বলে খুদে ব্লগ লেখার সাইট এক্সে (সাবেক টু্ইটার) দাবি করেছেন অনেকে। তাঁদের দাবি, ইরানের এই পদক্ষেপের ফলে বিভিন্ন দেশের ইন্টারনেট গতি ও সেবার ওপর বড় ধরনের প্রভাব পড়তে পারে। তবে ইরানের সরকারি কোনো সূত্র বা আন্তর্জাতিক নির্ভরযোগ্য কোনো সংস্থা আনুষ্ঠানিকভাবে হুমকির বিষয়টি নিশ্চিত করেনি।

আরো পড়ুন: আমেরিকা যেভাবে যুদ্ধকে লাভজনক ব্যবসায় পরিণত করেছে

ইরান লোহিত সাগরের নিচে থাকা ইন্টারনেট কেব্‌ল কেটে ফেললে কী ঘটবে, সে সম্পর্কে এক্সে দেওয়া এক পোস্টে মারিও নাউফাল নামের এক ব্যক্তি লিখেছেন, লোহিত সাগরের তলদেশে থাকা ইন্টারনেট কেবলের মাধ্যমে বিশ্বের মোট ইন্টারনেট ট্রাফিকের ১৭ শতাংশ প্রবাহিত হয়। এর মধ্যে অ্যামাজন, মাইক্রোসফট ও গুগল সমর্থিত সংযুক্ত আরব আমিরাত ও সৌদি আরবের এআই হাবগুলোও রয়েছে। যদি এই কেব্‌লগুলো বিচ্ছিন্ন হয়, তবে ইন্টারনেট বিভ্রাট কয়েক ঘণ্টা নয়, কয়েক মাস পর্যন্ত স্থায়ী হতে পারে।

লোহিত সাগরের তলদেশে থাকা সাবমেরিন কেব্‌লগুলো এশিয়া, ইউরোপ এবং মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোর মধ্যে সংযোগ রক্ষার পাশাপাশি অঞ্চলগুলোর প্রায় ৩০ শতাংশ ইন্টারনেট ট্রাফিক পরিচালনা করে থাকে। এর ফলে বিভিন্ন দেশের আর্থিক লেনদেন, ক্লাউড সার্ভিস, ভিডিও কল, ই-মেইল এবং এআই-সংক্রান্ত কাজ—সবই এসব কেবলের ওপর নির্ভরশীল। এমনকি বিশ্বের গুরুত্বপূর্ণ এআই অবকাঠামোগুলোও এই নেটওয়ার্কের সঙ্গে যুক্ত। ফলে এ ধরনের অবকাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত হলে বৈশ্বিক ডিজিটাল অর্থনীতিতে সরাসরি নেতিবাচক প্রভাব পড়বে।

সূত্র: টাইমস অব ইন্ডিয়া, ইন্ডিয়া টুডে

শেয়ার করুন
লেখকঃHossain Hawlader
অনুসরণ করুন
আমি হোসাইন হাওলাদার। আমি mehrab360.com এ একজন সম্পাদক হিসেবে কাজ করছি। আমি সরকারি ব্রজলাল কলেজ, খুলনা এর পদার্থবিজ্ঞান বিভাগের ছাত্র। ইমেইল: [email protected]
মন্তব্য করুন