২০১৯ সালে বিজ্ঞানের ইতিহাসে মানবজাতি এক যুগান্তকারী মুহূর্তের সাক্ষী হয়। সেদিন আমরা প্রথমবারের মতো কোনো ব্ল্যাক হোলের বাস্তব ছবি দেখেছিলাম, যা ছিল মেসিয়ার ৮৭ গ্যালাক্সির কেন্দ্রে অবস্থিত দানবীয় M87 ব্ল্যাক হোল জেট। যার ভর আমাদের সূর্যের চেয়ে প্রায় ৬৫০ কোটি গুণ বেশি। আইনস্টাইনের সাধারণ আপেক্ষিকতা তত্ত্বে শতবর্ষ আগে ব্ল্যাক হোলের অস্তিত্বের পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছিল, আর সেই ভবিষ্যদ্বাণী ২০১৯ সালে সত্যে পরিণত হয়।

সেই কৌতূহলকে এবার এক নতুন মাত্রায় নিয়ে গেল জেমস ওয়েব স্পেস টেলিস্কোপ। সম্প্রতি টেলিস্কোপটি তার শক্তিশালী ইনফ্রারেড ক্যামেরা দিয়ে পর্যবেক্ষণ করেছে সেই একই ব্ল্যাক হোলকে। এবার ধরা দিয়েছে ব্ল্যাক হোল থেকে প্রবল বেগে নির্গত হওয়া প্রায় আট হাজার আলোকবর্ষ দীর্ঘ ‘জেটের’ এক ইনফ্রারেড ছবি, যা আগে কখনো দেখা যায়নি। জেট হলো ব্ল্যাক হোলের শক্তিশালী মহাকর্ষ ও চৌম্বক ক্ষেত্রের প্রভাবে এর চারপাশ থেকে দুই বিপরীত দিকে ফোয়ারার মতো সবেগে বেরিয়ে আসা পদার্থ ও শক্তির প্রবাহ, যা মূলত প্লাজমা অবস্থায় থাকে।
আরো পড়ুনঃ আন্তর্জাতিক স্পেস স্টেশন, নাসার নতুন পরিকল্পনা
কিন্তু এবারের সবচেয়ে বড় চমক অন্যখানে। এই প্রথমবার, মূল জেটটির পাশাপাশি এর ঠিক বিপরীত দিকে ছুটে চলা ম্লান ‘কাউন্টার জেট’ এরও একটি পরিষ্কার ছবি পাওয়া সম্ভব হয়েছে। আমাদের থেকে ক্রমশ দূরে সরে যাওয়ায় ডপলার ইফেক্টের কারণে এই কাউন্টার জেটের আলো এতটাই ক্ষীণ ছিল যে এতদিন এর আবছা অস্তিত্ব ছাড়া আর কিছুই বোঝা যায়নি। কিন্তু জেমস ওয়েবের অতুলনীয় ক্ষমতা সেই ক্ষীণ আলোকেও ধারণ করতে সক্ষম হয়েছে।
M87 ব্ল্যাক হোল জেট
মূল জেটের পাশাপাশি কাউন্টার জেটটিকেও স্পষ্টভাবে দেখতে পাওয়া বিজ্ঞানীদের জন্য এক নতুন দরজা খুলে দিয়েছে। এখন তাঁরা ব্ল্যাক হোলের দুই দিকের শক্তি নিঃসরণের ভারসাম্য একই সাথে বিশ্লেষণ করতে পারবেন। গ্যালাক্সির কোটি কোটি নক্ষত্রের উজ্জ্বল আলোর ভিড় থেকে এই ম্লান জেটকে আলাদা করা সহজ ছিল না। এর জন্য গবেষকদের অত্যন্ত দক্ষতার সাথে ডিজিটাল পদ্ধতিতে নক্ষত্রপুঞ্জের আলো অপসারণ করতে হয়েছে।
এই যুগান্তকারী পর্যবেক্ষণটি ব্ল্যাক হোল সম্পর্কে আমাদের ধারণাকে আরও সমৃদ্ধ করবে এবং মহাবিশ্বের অপার রহস্য উন্মোচনের পথে মানবজাতিকে আরও এক ধাপ এগিয়ে নিয়ে যাবে।
সূত্র: লাইভ সায়েন্স