বিজ্ঞানীরা ত্বকের যত্নে ব্যবহৃত এক ধরনের যৌগ আবিষ্কার করেছেন, যা ওষুধ-প্রতিরোধী ব্যাকটেরিয়া মারতে সক্ষম। মেডেক্যাসিক অ্যাসিড নামের এই উপাদানটি কোরিয়ান স্কিনকেয়ারে ‘হিরো ইনগ্রিডিয়েন্ট’ নামে পরিচিত। সম্প্রতি কেন্ট ও ইউসিএল বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষকরা দেখেছেন, এটি অ্যান্টিবায়োটিক-প্রতিরোধী ই. কোলাই ব্যাকটেরিয়ার বৃদ্ধি রোধ করতে পারে। এই প্রাকৃতিক রাসায়নিকটি সেনটেলা অ্যাসিয়াটিকা নামের এশিয়ান ভেষজ থেকে পাওয়া যায়। এটি ব্যাকটেরিয়ার সাইটোক্রোম বি কমপ্লেক্সকে ব্লক করে কাজ করে, যা মানবদেহে নেই। গবেষকেরা এর আরও তিনটি কার্যকরী সংস্করণ তৈরি করেছেন, যা ব্যাকটেরিয়া মারা পর্যন্ত সক্ষম। বিশেষজ্ঞদের মতে, ২০২৫ থেকে ২০৫০ সালের মধ্যে অ্যান্টিমাইক্রোবিয়াল রেজিস্ট্যান্সে ৩৯ মিলিয়ন মানুষের মৃত্যু হতে পারে। তাই এই আবিষ্কার সময়োপযোগী বলে মনে করছেন বিজ্ঞানীরা।
ত্বকের যত্নে বহুল ব্যবহৃত একটি জনপ্রিয় উপাদান এবার হয়ে উঠতে পারে প্রাণঘাতী সুপারবাগের বিরুদ্ধে নতুন অস্ত্র। গবেষকেরা জানিয়েছেন, কোরিয়ান স্কিনকেয়ারে “হিরো ইনগ্রেডিয়েন্ট” হিসেবে পরিচিত মেডেক্যাসিক অ্যাসিড অ্যান্টিবায়োটিক-প্রতিরোধী ব্যাকটেরিয়া ধ্বংসে কার্যকর হতে পারে। ইউনিভার্সিটি অফ কেন্ট এবং ইউনিভার্সিটি কলেজ লন্ডন এর গবেষকেরা কম্পিউটারভিত্তিক বিশ্লেষণ ও পরীক্ষাগার গবেষণায় দেখেছেন, ম্যাডেক্যাসিক অ্যাসিড নামের এই প্রাকৃতিক যৌগ ব্যাকটেরিয়ার বিরুদ্ধে শক্তিশালী প্রতিরোধ গড়ে তুলতে পারে। এটি আসে সেন্টেলা এশিয়াটিকা উদ্ভিদ থেকে, যা বহুদিন ধরেই এশীয় ভেষজ চিকিৎসায় ব্যবহৃত।
গবেষণায় দেখা গেছে, এই যৌগ অ্যান্টিবায়োটিক-প্রতিরোধী ই. কোলাই এর বৃদ্ধি থামাতে পারে। এটি ব্যাকটেরিয়ার সাইটোক্রোম বিডি কমপ্লেক্সে বাধা সৃষ্টি করে, যা ব্যাকটেরিয়ার শ্বাস-প্রশ্বাস ও টিকে থাকার জন্য জরুরি। গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, এই জৈবিক ব্যবস্থা মানুষ বা প্রাণীর শরীরে নেই, ফলে এটি নতুন ওষুধ তৈরির জন্য নিরাপদ লক্ষ্য হতে পারে। আরও চমকপ্রদ বিষয়, গবেষকেরা মেডেক্যাসিক অ্যাসিডের তিনটি পরিবর্তিত সংস্করণ তৈরি করেছেন, যেগুলোও ব্যাকটেরিয়ার বৃদ্ধি থামাতে সক্ষম হয়েছে। এর মধ্যে একটি সংস্করণ বেশি মাত্রায় ব্যাকটেরিয়া সরাসরি ধ্বংসও করতে পেরেছে।
বিজ্ঞানীরা মনে করছেন, এই যৌগ ভবিষ্যতে নতুন ধরনের অ্যান্টিমাইক্রোবিয়াল ওষুধ তৈরির ভিত্তি হতে পারে, যা প্রচলিত অ্যান্টিবায়োটিকের চেয়ে ভিন্ন উপায়ে কাজ করবে। অ্যান্টিমাইক্রোবিয়াল রেজিস্ট্যান্স বা ওষুধ-প্রতিরোধী সংক্রমণ যখন বৈশ্বিক স্বাস্থ্যঝুঁকিতে পরিণত হয়েছে এবং ২০২৫ থেকে ২০৫০ সালের মধ্যে কোটি কোটি মৃত্যুর আশঙ্কা করা হচ্ছে, তখন উদ্ভিদভিত্তিক এমন প্রাকৃতিক রাসায়নিক নতুন আশার দরজা খুলে দিচ্ছে। পাশাপাশি গবেষণাটি স্কিনকেয়ারে ব্যবহারের সময় এই উপাদান ত্বকের প্রাকৃতিক মাইক্রোবায়োমে কী প্রভাব ফেলে, সে বিষয়েও নতুন প্রশ্ন তুলেছে। গবেষকদের ভাষায়, প্রকৃতি যেন এক বিশাল রাসায়নিক কারখানা, আর আধুনিক বিজ্ঞান এখন সেই গুপ্ত ভাণ্ডারের তালা খুলতে শুরু করেছে।
তথ্যসূত্রঃ www.sciencedaily.com