গরুর মাংস আবার জনপ্রিয়তার আলোচনায় ফিরেছে, বিশেষ করে যখন প্রোটিন গ্রহণের প্রবণতা বিশ্বজুড়ে বেড়েছে। যুক্তরাষ্ট্রসহ অনেক দেশে এখন লাল মাংসকে স্বাস্থ্যকর খাদ্যতালিকার অংশ হিসেবে তুলে ধরা হচ্ছে, তবে এই পরিবর্তন সবার কাছে স্পষ্ট নয় এবং কিছুটা বিভ্রান্তিও তৈরি করছে। অতীতে জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা লাল মাংস কম খাওয়ার পরামর্শ দিলেও সাম্প্রতিক নির্দেশিকায় গরুর মাংসকে খাদ্য পিরামিডের গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে দেখানো হয়েছে, ফলে অনেকেই ভাবতে শুরু করেছেন যে ইচ্ছেমতো স্টেক বা গরুর মাংস খাওয়া নিরাপদ।
বাস্তবে বিষয়টি এতটা সরল নয়, কারণ গরুর মাংস উচ্চমানের প্রোটিন, আয়রন, ভিটামিন বি১২ এবং অন্যান্য পুষ্টিগুণে সমৃদ্ধ হলেও এতে স্যাচুরেটেড ফ্যাটের পরিমাণ বেশি থাকে, যা অতিরিক্ত গ্রহণ করলে হৃদরোগের ঝুঁকি বাড়াতে পারে।সাম্প্রতিক সময়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মাংসাশী খাদ্যাভ্যাস নিয়ে প্রচারণা বেড়েছে, অনেক ইনফ্লুয়েন্সার গরুর চর্বি বা ট্যালো ব্যবহারের প্রচার করছেন এবং “প্রাকৃতিক” বা “আসল খাবার” খাওয়ার ধারণাকে জনপ্রিয় করছেন। কিন্তু সব প্রাকৃতিক খাবারই যে স্বাস্থ্যকর, তা নয়। দীর্ঘদিনের বৈজ্ঞানিক গবেষণায় দেখা গেছে, অতিরিক্ত লাল মাংস খাওয়া হৃদরোগ, স্ট্রোক এবং কিছু ধরনের ক্যান্সারের ঝুঁকির সাথে সম্পর্কিত।
বিশেষ করে প্রক্রিয়াজাত মাংস যেমন সসেজ বা বেকন আরও বেশি ক্ষতিকর হিসেবে বিবেচিত হয়। তাই স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা এখনও পরামর্শ দেন যে লাল মাংস সীমিত পরিমাণে খাওয়া উচিত এবং খাদ্যতালিকায় উদ্ভিদভিত্তিক প্রোটিন যেমন ডাল, বাদাম ও শস্য বেশি অন্তর্ভুক্ত করা ভালো।এছাড়া পরিবেশগত দিক থেকেও গরুর মাংস উৎপাদন একটি বড় চ্যালেঞ্জ, কারণ এটি অন্যান্য খাবারের তুলনায় বেশি গ্রিনহাউস গ্যাস নির্গমন করে এবং বেশি পানি ও জমি ব্যবহার করে।
ফলে স্বাস্থ্য ও পরিবেশ দুই দিক থেকেই পরিমিতি বজায় রাখা গুরুত্বপূর্ণ। সবকিছু বিবেচনায় বলা যায়, গরুর মাংস সম্পূর্ণ এড়িয়ে চলা জরুরি নয়, তবে এটি যেন সুষম খাদ্যাভ্যাসের একটি ছোট অংশ থাকে এবং বৈচিত্র্যময় পুষ্টিকর খাবারের সাথে ভারসাম্য রেখে খাওয়া হয়, সেটাই সবচেয়ে বুদ্ধিমান পছন্দ।