মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের এমআইটির গবেষকেরা অপটিক্যাল পদার্থবিজ্ঞানে এক চমকপ্রদ আবিষ্কার করেছেন, যেখানে বিশৃঙ্খল লেজার আলো নির্দিষ্ট অবস্থায় নিজে থেকেই সংগঠিত হয়ে সূক্ষ্ম ‘পেন্সিল বিম’ এ রূপ নেয়। এই নতুন ধরনের লেজার প্রযুক্তি ব্যবহার করে, তারা মানবদেহের রক্ত-মস্তিষ্ক বাধার ত্রিমাত্রিক ছবি আগের প্রচলিত পদ্ধতির তুলনায় প্রায় ২৫ গুণ দ্রুত ধারণ করতে সক্ষম হয়েছেন। তবুও ছবির মান বা রেজোলিউশন প্রায় একই থাকে। এর ফলে বিজ্ঞানীরা এখন সরাসরি দেখতে পারবেন কোনো ওষুধ মস্তিষ্কে প্রবেশ করে কোষে কীভাবে শোষিত হচ্ছে, যা আলঝেইমার রোগ বা অ্যামিওট্রফিক ল্যাটারাল স্ক্লেরোসিসের মতো স্নায়বিক রোগের চিকিৎসা উন্নয়নে বড় ভূমিকা রাখতে পারে।
গবেষণার প্রধান বিজ্ঞানী সিক্সিয়ান ইউ জানান, সাধারণ ধারণা ছিল লেজারের শক্তি বাড়ালে আলো আরও বিশৃঙ্খল হয়ে যায়। কিন্তু তাঁরা প্রমাণ করেছেন সঠিক শর্তে আলো নিজেই একটি সুশৃঙ্খল ও স্থিতিশীল রূপ নিতে পারে। এই প্রক্রিয়ায় দুটি বিষয় গুরুত্বপূর্ণ। লেজারকে একেবারে শূন্য ডিগ্রি কোণে ফাইবারে প্রবেশ করাতে হবে এবং শক্তি এমন মাত্রায় বাড়াতে হবে যাতে, আলো ফাইবারের কাচের সঙ্গে মিথস্ক্রিয়া শুরু করে। তখন ননলিনিয়ার প্রভাব বিশৃঙ্খলতাকে দমন করে একটি ভারসাম্য তৈরি করে। যার ফলে গঠিত হয় অতিদ্রুত ও সূক্ষ্ম পেন্সিল বিম।
এই পদ্ধতির বিশেষ সুবিধা হলো এতে জটিল লাইট-ইঞ্জিনিয়ারিং প্রযুক্তির প্রয়োজন নেই। বরং সাধারণ অপটিক্যাল সেটআপ দিয়েই এটি তৈরি করা সম্ভব। গবেষকেরা দেখেছেন, এই পেন্সিল বিম অন্যান্য লেজার বিমের তুলনায় বেশি স্থিতিশীল এবং এতে পার্শ্বীয় ঝাপসা আলো বা সাইডলোব প্রায় থাকে না। ফলে ছবি হয় আরও পরিষ্কার ও নির্ভুল। এই প্রযুক্তি ব্যবহার করে তারা মানব রক্ত-মস্তিষ্ক বাধার ভেতরে কোষ কীভাবে প্রোটিন বা ওষুধ গ্রহণ করছে তা বাস্তব সময়ে পর্যবেক্ষণ করেছেন। যা ভবিষ্যতে ওষুধ পরীক্ষার গতি ও নির্ভুলতা বহুগুণ বাড়াতে পারে।
গবেষণাটি প্রকাশিত হয়েছে বিখ্যাত বৈজ্ঞানিক সাময়িকী নেচার মেথডে। ভবিষ্যতে গবেষকেরা এই পেন্সিল বিমের মৌলিক পদার্থবিজ্ঞান আরও গভীরভাবে বোঝার পাশাপাশি এটি মস্তিষ্কের নিউরন চিত্রায়নসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে ব্যবহার এবং বাণিজ্যিকভাবে প্রয়োগের পরিকল্পনা করছেন।
সূত্রঃ phys.org