গরমের সময় অনেকেরই রাতে ভালো ঘুম হয় না। সহজে ঘুম আসে না, মাঝরাতে বারবার ঘুম ভেঙে যায় এবং সকালে ঘুম থেকে উঠেও শরীর ক্লান্ত লাগে। এর প্রধান কারণ হলো শরীরের স্বাভাবিক তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণে বাধা সৃষ্টি হওয়া। ঘুমানোর সময় শরীরের তাপমাত্রা স্বাভাবিকের তুলনায় কিছুটা কমে যায়। এই প্রক্রিয়াটি ভালো ঘুমের জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ। কিন্তু শোবার ঘর অতিরিক্ত গরম হলে শরীর সহজে তাপ বের করতে পারে না। ফলে ঘুমাতে দেরি হয় এবং গভীর ঘুমও ব্যাহত হয়। আর্দ্রতা এই সমস্যাকে আরও বাড়িয়ে তোলে। শরীর ঘামের মাধ্যমে নিজেকে ঠান্ডা রাখে। ঘাম ত্বক থেকে বাষ্প হয়ে উড়ে গেলে শরীরের তাপও বেরিয়ে যায়। কিন্তু বাতাসে আর্দ্রতা বেশি থাকলে ঘাম সহজে শুকায় না। ফলে শরীর আরও বেশি গরম অনুভব করে এবং ঘুমের মান কমে যায়। বিশেষজ্ঞদের মতে, এয়ার কন্ডিশনার ঘর ঠান্ডা রাখতে কার্যকর হলেও এটি সব পরিবারের জন্য সাশ্রয়ী নয়। তাই প্রাকৃতিকভাবে ঘর ঠান্ডা রাখার উপায়গুলো বেশি কার্যকর ও কম খরচের সমাধান হতে পারে।
গরমে ভালো ঘুমের জন্য ৮টি কার্যকর উপায়
১. দিনের বেলায় সূর্যের আলো ঘরে ঢুকতে দেবেন নারোদ পড়ে এমন জানালার পর্দা বা ব্লাইন্ড দিনের বেলায় বন্ধ রাখুন। এতে সূর্যের তাপ ঘরে কম প্রবেশ করবে এবং মেঝে, দেয়াল ও আসবাবপত্র অতিরিক্ত গরম হবে না। সম্ভব হলে শেড, ছাউনি বা শাটার ব্যবহার করুন। বাইরের বাতাস ভেতরের তুলনায় বেশি গরম থাকলে জানালা বন্ধ রাখুন। খুব সকাল, সন্ধ্যা বা রাতে যখন বাইরের বাতাস ঠান্ডা থাকে তখন জানালা খুলুন।
২. ঠান্ডা বাতাস চলাচলের ব্যবস্থা করুনবাড়ির বিপরীত দিকের জানালা বা দরজা খুলে রাখলে বাতাস সহজে চলাচল করতে পারে। বিশেষ করে রাতের দিকে বা ভোরে এই পদ্ধতি ঘরের জমে থাকা গরম বাতাস বের করে দিতে সাহায্য করে।
৩. রোদমুখী ঘরের তাপ কমানকাচঘেরা কনজারভেটরি বা রোদমুখী ঘর দ্রুত গরম হয়ে যায়। তাই দিনের বেলায় সেখানে বাতাস চলাচলের ব্যবস্থা রাখুন এবং প্রয়োজন হলে মূল ঘরের দরজা বন্ধ রাখুন। ব্লাইন্ড, প্রতিফলক ফিল্ম, শেড বা ছাউনি ব্যবহার করলে তাপ কম প্রবেশ করে। উপরের তলার ঘর বেশি গরম হলে ছাদের তাপ কমানোর ব্যবস্থাও উপকারী হতে পারে।
৪. প্রয়োজনে ঘুমানোর ঘর পরিবর্তন করুনউপরের তলার ঘর বা দক্ষিণ ও পশ্চিমমুখী কক্ষ সাধারণত বেশি গরম থাকে। তাপপ্রবাহের সময় নিচতলার বা উত্তরমুখী অপেক্ষাকৃত ঠান্ডা ঘরে ঘুমানোর চেষ্টা করুন।
৫. ঘরের তাপ ও আর্দ্রতা কমানওভেন, চুলা, ড্রায়ার, ওয়াশিং মেশিন ও ডিশওয়াশারের মতো যন্ত্র ঘরের তাপ বাড়ায়। খুব গরমের দিনে এগুলো সকালে বা সন্ধ্যায় ব্যবহার করুন। রান্না বা গোসলের সময় এক্সট্র্যাক্টর ফ্যান চালু রাখুন, যাতে গরম ও আর্দ্র বাতাস দ্রুত বাইরে চলে যায়।
৬. হালকা ও বাতাস চলাচল করে এমন কাপড় ব্যবহার করুনহালকা, ঢিলেঢালা পোশাক এবং তুলা বা লিনেনের বিছানার চাদর ব্যবহার করুন। এসব কাপড় ঘাম শোষণ করে এবং বাতাস চলাচলে সহায়তা করে। ভারী কম্বল, মোটা কাঁথা ও তাপ আটকে রাখে এমন সিনথেটিক কাপড় এড়িয়ে চলুন।
৭. ফ্যান সঠিকভাবে ব্যবহার করুনফ্যান বাতাস ঠান্ডা করে না, তবে শরীরের ঘাম দ্রুত শুকাতে সাহায্য করে। এতে শরীর তুলনামূলক ঠান্ডা অনুভব করে। তবে অতিরিক্ত গরম, পানিশূন্যতা বা অসুস্থ অবস্থায় শুধু ফ্যানের ওপর নির্ভর করা উচিত নয়। পর্যাপ্ত পানি পান করুন এবং ঘুমানোর সময় ফ্যানের বাতাস সরাসরি মুখে লাগিয়ে রাখবেন না।
৮. কম খরচের শীতল রাখার উপায় ব্যবহার করুনপুনর্ব্যবহারযোগ্য আইস প্যাক, কুলিং পিলো বা কুলিং ম্যাট্রেস টপার ব্যবহার করলে আরাম পাওয়া যেতে পারে। তবে আইস প্যাক সরাসরি ত্বকে লাগাবেন না। কাপড়ে মুড়ে ব্যবহার করুন, যাতে ত্বকের ক্ষতি না হয়।
গরমে ভালো ঘুমের প্রস্তুতি শুরু হয় ঘুমানোর অনেক আগেই। দিনের বেলায় সূর্যের তাপ ঘরে ঢুকতে না দেওয়া, রাতে ঠান্ডা বাতাস চলাচলের ব্যবস্থা করা, ঘরের ভেতরের তাপ কমানো, সবচেয়ে ঠান্ডা ঘরে ঘুমানো এবং হালকা বিছানা ও পোশাক ব্যবহার করলে গরমের মধ্যেও আরামদায়ক ও গভীর ঘুম পাওয়া সম্ভব।