গাড়ির ব্যাটারিতে পানি দেওয়া হয় মূলত এর ভেতরের রাসায়নিক প্রক্রিয়াকে সচল রাখার জন্য। বিশেষ করে লিড-অ্যাসিড ব্যাটারিতে সালফিউরিক এসিডের ও পানির মিশ্রণই বিদ্যুৎ উৎপন্ন করে। ব্যবহার চলাকালে চার্জ ও ডিসচার্জের সময় কিছু পানি ভেঙে গ্যাস হয়ে উড়ে যায়। ফলে, ইলেক্ট্রোলাইটের মাত্রা কমে যায়। এই ঘাটতি পূরণ না করলে প্লেটগুলো শুকিয়ে যেতে পারে। ব্যাটারির ক্ষমতা কমে যায়। তাই, নির্দিষ্ট সময় পরপর ডিস্টিল্ড পানি যোগ করে, ইলেক্ট্রোলাইটের সঠিক স্তর বজায় রাখা হয়। যাতে ব্যাটারি দীর্ঘদিন কার্যকর থাকে।

গাড়ির ব্যাটারিতে পানি দেওয়ার আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ কারণ হলো তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণ। ব্যাটারি কাজ করার সময় ভেতরে তাপ তৈরি হয়। পানির উপস্থিতি সেই তাপ কিছুটা শোষণ করে, ব্যাটারিকে অতিরিক্ত গরম হওয়া থেকে রক্ষা করে। ব্যাটারির ভেতরের লিড প্লেটগুলো সব সময় ইলেক্ট্রোলাইটের মধ্যে ডুবে থাকতে হয়। পানি কমে গেলে প্লেটের উপরের অংশ বাতাসের সংস্পর্শে আসে। এতে অক্সিডেশন বেড়ে যায় এবং প্লেট দ্রুত নষ্ট হতে শুরু করে।
আরো পড়ুন: ছাতার বা তাবুর কাপড়ের মধ্যদিয়ে পানি প্রবেশ করতে পারেনা কেন?
গাড়ির ব্যাটারিতে পানি দেওয়া হয় যেভাবে
চার্জ দেওয়ার সময় বিশেষ করে পানি বেশি কমে যায়। কারণ তখন Electrolysis প্রক্রিয়ায় পানি হাইড্রোজেন ও অক্সিজেনে ভেঙে গ্যাস হয়ে বেরিয়ে যায়। নিয়মিত পানি না দিলে ব্যাটারি দুর্বল হয়ে পড়ে। ডিস্টিল্ড পানি ব্যবহার করার কারণ হলো, এতে কোনো খনিজ বা ময়লা থাকে না। সাধারণ পানি দিলে ভেতরে জমে থাকা লবণ বা ধাতব কণা রাসায়নিক বিক্রিয়ায় বাধা দেয়। ব্যাটারির আয়ু কমিয়ে দেয়।
পানি কমে গেলে ব্যাটারির ভোল্টেজ স্থির থাকে না। গাড়ি স্টার্ট নিতে সমস্যা হয়। হেডলাইট কম জ্বলে বা দ্রুত ব্যাটারি ডাউন হয়ে যায়। তবে সব ব্যাটারিতে পানি দিতে হয় না। আধুনিক মেইনটেন্যান্স-ফ্রি ব্যাটারিগুলো এমনভাবে তৈরি যে ভেতরের পানি সহজে বের হয় না। তাই এগুলোতে আলাদা করে পানি যোগ করার দরকার পড়ে না।