২০৩৬ সালের মধ্যে চাঁদে স্থায়ী ঘাঁটি বানাবে নাসা। নাসার প্রধান জ্যারেড আইজ্যাকম্যান সম্প্রতি ঘোষণা দিয়েছেন, আগামী দশকের মধ্যেই চাঁদের দক্ষিণ মেরুতে মানুষের স্থায়ী বসবাসের জন্য প্রায় ৩০ বিলিয়ন ডলারের এক বিশাল মেগা-প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হবে; একসময় Apollo missions-এর মাধ্যমে মানুষ প্রথম চাঁদে পা রাখলেও দীর্ঘদিন সেই উত্তেজনা থেমে ছিল, তবে এবার আর শুধু পায়ের ছাপ রেখে আসা নয়, বরং চাঁদের বুকে স্থায়ী ঘাঁটি গড়ে তোলাই নাসার মূল লক্ষ্য; আইজ্যাকম্যান স্পষ্ট ভাষায় বলেছেন, “এবারের লক্ষ্য শুধু পতাকা আর পায়ের ছাপ নয়, আমরা সেখানে থাকতে যাচ্ছি।”

এই লক্ষ্য পূরণে নাসা তাদের পুরোনো অনেক পরিকল্পনা বদলে ফেলেছে; চাঁদের কক্ষপথে ঘোরার জন্য পরিকল্পিত গেটওয়ে স্পেস স্টেশন বাতিল করা হয়েছে এবং আন্তর্জাতিক স্পেস স্টেশনের দিকেও মনোযোগ কমিয়ে এখন সরাসরি চাঁদের মাটিতে ঘাঁটি নির্মাণে জোর দেওয়া হচ্ছে; চাঁদে মানুষ পাঠানোর এই নতুন কর্মসূচির নাম দেওয়া হয়েছে Artemis program, যার অধীনে Artemis II মিশনে চারজন নভোচারী চাঁদের কক্ষপথ প্রদক্ষিণ করবেন, এরপর Artemis III (২০২৭) মিশনে স্পেসএক্স ও ব্লু অরিজিনের লুনার ল্যান্ডারের সঙ্গে ওরিয়ন ক্যাপসুলের ডকিং পরীক্ষা করা হবে এবং Artemis IV (২০২৮) মিশনে আবার মানুষ চাঁদের মাটিতে অবতরণ করবে; পরিকল্পনা অনুযায়ী এরপর প্রতি ছয় মাস অন্তর নভোচারীদের দল পাঠানো হবে চাঁদের দক্ষিণ মেরুতে, যেখানে তারা বরফ ও মূল্যবান খনিজ পদার্থ নিয়ে গবেষণা করবেন।
নাসা নিয়ে আরো পড়ুন: আন্তর্জাতিক স্পেস স্টেশন, নাসার নতুন পরিকল্পনা
তবে এই স্বপ্ন বাস্তবায়ন মোটেও সহজ নয়; চাঁদের দক্ষিণ মেরুতে এমন অনেক এলাকা রয়েছে যেখানে মাসের পর মাস সূর্যের আলো পৌঁছায় না, ফলে শক্তির বড় সংকট দেখা দেয়; এই সমস্যার সমাধানে নাসা তেজস্ক্রিয় আইসোটোপভিত্তিক শক্তি এবং ভবিষ্যতে একটি পূর্ণাঙ্গ পারমাণবিক চুল্লি স্থাপনের পরিকল্পনা করছে, যা শুধু চাঁদের জন্য নয়, ভবিষ্যতের মঙ্গল অভিযানের জন্যও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে; বিশেষজ্ঞ Casey Dreier মনে করেন, এই পারমাণবিক শক্তি ব্যবহারের পরিকল্পনাই প্রকল্পটির সবচেয়ে আকর্ষণীয় দিক।
অন্যদিকে, এই বিশাল প্রকল্পের সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হলো ধারাবাহিকভাবে সফল রকেট উৎক্ষেপণ নিশ্চিত করা; নাসার কর্মকর্তা Carlos García-Galán জানিয়েছেন, ২০২৮ সালের মিশনের আগে অন্তত ২৪টি সফল লঞ্চ সম্পন্ন করতে হবে, যার মধ্যে থাকবে রোভার, ড্রোন এবং আবাসন মডিউল; প্রথমদিকে নাসার নিজস্ব রকেট ব্যবহার করা হলেও পরবর্তীতে SpaceX-এর স্টারশিপ রকেটের ওপর নির্ভর করতে হতে পারে।
এরই মধ্যে শুরু হয়েছে নতুন মহাকাশ প্রতিযোগিতা; China ঘোষণা দিয়েছে, তারা ২০৩০ সালের মধ্যেই চাঁদে মানুষ পাঠাতে চায়, ফলে যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের মধ্যে চাঁদ দখলের এক নতুন ভূ-রাজনৈতিক প্রতিযোগিতা তৈরি হয়েছে, যেখানে জয়-পরাজয়ের ব্যবধান হতে পারে মাত্র কয়েক মাস; সব মিলিয়ে, মানব সভ্যতা আবারও এক নতুন মহাকাশ যুগের দোরগোড়ায় দাঁড়িয়ে, যেখানে চাঁদ আর দূরের কোনো রহস্য নয়, বরং ভবিষ্যতের সম্ভাব্য আবাসস্থল।
সূত্র: সায়েন্টিফিক আমেরিকান