বৃত্তের ৩৬০ ডিগ্রির ধারণা হঠাৎ করে তৈরি হয়নি। এর পেছনে রয়েছে হাজার বছরের প্রাচীন জ্যোতির্বিদ্যা, গণিত ও সভ্যতার ইতিহাস। প্রাচীন ব্যাবিলনীয়রা (Babylonians) প্রায় ৪,০০০ বছর আগে ৬০-ভিত্তিক (Sexagesimal) সংখ্যা পদ্ধতি ব্যবহার করত।


বিস্তারিত ভিডিও তে…


তারা সূর্যবর্ষকে প্রায় ৩৬০ দিনে ভাগ করেছিল (বাস্তবে ৩৬৫ দিন হলেও গাণিতিক সুবিধার জন্য ৩৬০ ধরা হত)। একটি বছরকে যদি এক সম্পূর্ণ বৃত্ত ধরা হয়, তাহলে প্রতিদিনকে এক ডিগ্রি হিসেবে ধরা যৌক্তিক মনে হয়েছিল।

পৃথিবী সূর্যের চারপাশে ঘুরতে ঘুরতে প্রতিদিন প্রায় ১ ডিগ্রি করে কক্ষপথে অগ্রসর হয়। এক বছরে প্রায় ৩৬০ দিনের সমান দূরত্ব অতিক্রম করে, ফলে একটি পূর্ণ বৃত্ত = ৩৬০ ভাগ। ৩৬০ সংখ্যাটি খুব বেশি গুণনীয়ক (divisors) বিশিষ্ট যেমন 2, 3, 4, 5, 6, 8, 9, 10, 12, 15, 18, 20… ফলে বিভিন্ন ভগ্নাংশে (½, ⅓, ¼, ⅙ ইত্যাদি) সহজে ভাগ করা যায়। স্থপতি, নাবিক, জ্যোতির্বিজ্ঞানী, সবাই এই বিভাজন সুবিধাজনক পেয়েছে।


ভাবুন, যদি প্রাচীন ব্যাবিলনীয়দের বদলে কোনো এলিয়েন সভ্যতা আমাদের গণিত নির্ধারণ করত, হয়তো আজ বৃত্ত হতো 400 গ্রেড (gradian system) বা 1000 মিলিডিগ্রি। কিন্তু আমাদের ইতিহাসে ৩৬০ ডিগ্রি-ই রয়ে গেছে। বৃত্তের ৩৬০ ডিগ্রি কোনো কাকতালীয় বিষয় নয়, এটি ইতিহাস, জ্যোতির্বিদ্যা ও গণিতের সম্মিলিত ফলাফল। প্রাচীন সভ্যতার এই সিদ্ধান্ত আজও বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির প্রতিটি ক্ষেত্রে বহুল ব্যবহৃত।

Google News Logo

নতুন পোস্ট ও আপডেট পেতে এখনই Google News-এ আমাদের চ্যানেল ফলো করুন।

🔗 ফলো করুন Google News-এ


Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *