“ব্লু মুন” কথাটি অনেকেই শুনেছেন। সাধারণত কোনো বিরল ঘটনা বোঝাতে এই শব্দটি ব্যবহার করা হয়। কিন্তু ব্লু মুন আসলে একটি বাস্তব জ্যোতির্বৈজ্ঞানিক ঘটনা। এটি ঘটে যখন একই মাসে আকাশে দুটি পূর্ণিমা দেখা যায়। সেই মাসের দ্বিতীয় পূর্ণিমাকেই ব্লু মুন বলা হয়। চাঁদের একটি পূর্ণ চক্র শেষ হতে প্রায় ২৯.৫ দিন সময় লাগে। অন্যদিকে আমাদের ক্যালেন্ডারের মাস সাধারণত ৩০ বা ৩১ দিনের। এই সামান্য পার্থক্যের কারণে কখনও কখনও একটি মাসে দুটি পূর্ণিমা দেখা যায়।
আর তখন দ্বিতীয় পূর্ণিমাটি ব্লু মুন নামে পরিচিত হয়। এই ঘটনা খুব ঘন ঘন ঘটে না। সাধারণত প্রতি দুই থেকে তিন বছর পর একবার ব্লু মুন দেখা যায়। হিসাব অনুযায়ী প্রতি ১৯ বছরে প্রায় সাতবার এটি ঘটে। কখনও কখনও একটি বছরেই দুটি ব্লু মুনও দেখা যেতে পারে। যেমন ২০১৮ সালে জানুয়ারি ও মার্চ মাসে দুটি করে পূর্ণিমা দেখা গিয়েছিল, কিন্তু ফেব্রুয়ারিতে কোনো পূর্ণিমা ছিল না। আবার এমন ঘটনা ২০৩৭ সালে ঘটতে পারে। ব্লু মুনের আরেকটি ধরনও রয়েছে, যাকে সিজনাল ব্লু মুন বলা হয়। সাধারণত তিন মাসের একটি ঋতুতে তিনটি পূর্ণিমা দেখা যায়।
কিন্তু যদি সেখানে চারটি পূর্ণিমা দেখা যায়, তাহলে তৃতীয় পূর্ণিমাটিকে সিজনাল ব্লু মুন বলা হয়। পরবর্তী সিজনাল ব্লু মুন দেখা যাবে ২০ মে ২০২৭ সালে। অনেকের মনে প্রশ্ন আসে, ব্লু মুন কি সত্যিই নীল রঙের হয়? উত্তর হলো না। নামের মধ্যে “ব্লু” থাকলেও চাঁদ সাধারণত তার স্বাভাবিক সাদা, রূপালি বা হালকা সোনালি রঙেই দেখা যায়। “Once in a blue moon” বা “ব্লু মুন” কথাটির প্রচলন বহু পুরোনো। অতীতে এটি এমন কিছু বোঝাতে ব্যবহার করা হতো যা খুব বিরল বা প্রায় অসম্ভব।
পরে এই নামটি জ্যোতির্বিজ্ঞানে জনপ্রিয় হয়ে যায়। তবে খুব বিরল কিছু পরিস্থিতিতে চাঁদ সত্যিই নীলচে দেখাতে পারে। পৃথিবীর বায়ুমণ্ডলে ধোঁয়া, ছাই বা ধূলিকণার বিশেষ অবস্থার কারণে এমন হতে পারে। ইতিহাসে ১৮৮৩ সালে ইন্দোনেশিয়ার ক্রাকাতোয়া আগ্নেয়গিরির অগ্ন্যুৎপাতের পর অনেক মানুষ চাঁদকে নীলচে রঙে দেখার কথা বলেছিলেন। এবারের ব্লু মুনের সঙ্গে আরেকটি বিশেষ ঘটনা ঘটছে। এটি একটি মাইক্রোমুনও। মাইক্রোমুন বলতে বোঝায়, পূর্ণিমার সময় চাঁদ পৃথিবী থেকে তুলনামূলক সবচেয়ে দূরে অবস্থান করে। ফলে এটি স্বাভাবিকের তুলনায় সামান্য ছোট দেখাতে পারে। চাঁদের কক্ষপথ পুরোপুরি গোল নয়। তাই কখনও এটি পৃথিবীর কাছে আসে, আবার কখনও দূরে সরে যায়। পৃথিবীর সবচেয়ে কাছের অবস্থানকে বলা হয় পেরিজি এবং সবচেয়ে দূরের অবস্থানকে বলা হয় অ্যাপোজি।
এই ওয়েবসাইটে আপনার রিডিং ইতিহাস দেখুন: রিডিং লিস্ট
যখন পূর্ণিমা অ্যাপোজির কাছাকাছি হয়, তখন তাকে মাইক্রোমুন বলা হয়। এবারের পূর্ণিমায় চাঁদ পৃথিবী থেকে প্রায় ৪০৬ হাজার কিলোমিটার দূরে থাকবে। যদিও এত দূরে থাকলেও খালি চোখে চাঁদকে খুব ছোট মনে হবে না। যারা নিয়মিত চাঁদ দেখেন, তারা হয়তো সামান্য পার্থক্য বুঝতে পারবেন। তবে সাধারণ মানুষের চোখে এটি প্রায় স্বাভাবিকই লাগবে। আমেরিকা, আফ্রিকা ও ইউরোপে ৩০ মে রাতে ব্লু মুন সবচেয়ে উজ্জ্বল দেখা যাবে। আর এশিয়া, অস্ট্রেলিয়া ও নিউজিল্যান্ডে ৩১ মে রাতে পূর্ণিমার চাঁদ সবচেয়ে সুন্দরভাবে দেখা যাবে। চাঁদ দেখার জন্য খোলা আকাশ, কম আলো দূষণ এবং পরিষ্কার আবহাওয়া সবচেয়ে ভালো। আর ছবি তুলতে চাইলে মোবাইল ফোন দিয়েই দারুণ ছবি তোলা সম্ভব। বিশেষ করে চাঁদ ওঠার পর সন্ধ্যার নীলচে আকাশে ছবি তুললে সেটি আরও সুন্দর দেখায়।
লেখক: শিক্ষার্থী, পদার্থবিজ্ঞান বিভাগ, সরকারি ব্রজলাল কলেজ, খুলনা। সূত্র: সিএনএন