
আমরা এই পৃথিবীতে বসবাস করি। পৃথিবীর উপর বসে, আমরা উপরের দিক তাকালে নীল আকাশ দেখতে পাই। আকাশ নীল রং দেখায় কেন বা বায়ুমণ্ডল না থাকলে আকাশ কেমন দেখাতো?
সূর্যের আলোর মধ্যে বিভিন্ন তরঙ্গ দৈর্ঘ্যের সাত রঙের আলো রয়েছে। যখন এক আলোক তরঙ্গ অত্যন্ত ক্ষুদ্র কোন কণার উপর পড়ে, তখন এ কণাগুলো আলোর তরঙ্গ কে বিভিন্ন দিকে ছড়িয়ে দেয়। একে আলোর বিক্ষেপণ বলে। এ বিক্ষেপণ নির্ভর করে আলোকান্ত তরঙ্গ দৈর্ঘ্যের উপর। কমদৈর্ঘ্যের আলোক তরঙ্গের বিক্ষেপণ বেশি হয়। কারণ বিক্ষেপণ ব্যস্তানুপাতিক তরঙ্গদৈর্ঘ্য।
আরো পড়ুন: বায়ুমণ্ডল না থাকলে আকাশ কেমন দেখাতো?
নীল বর্ণের আলোর তরঙ্গ দৈর্ঘ্য কম। কারণ দৃশ্য তরঙ্গদৈর্ঘ্যের অনুসারে নীল বর্ণের তরঙ্গ দৈর্ঘ্য কম থাকে। সূর্য রশ্মি যখন বায়ুমন্ডলে সূক্ষ্ম ধূলিকণা ও অনুতে আপতিত হয়, তখন নীলবর্ণ ও এর কাছাকাছি রং গুলোর বিক্ষেপণ বেশি হয়। ফলে বেগুনি, আসমানী ও নীল রঙের এর প্রাচুর্য্য ঘটায়, আকাশ নীল দেখায়। এবার আসি,
বায়ুমন্ডল না থাকলে আকাশ কেমন দেখাতো?
বায়ুমণ্ডল না থাকলে আকাশ কালো দেখাবে। কারণ আলোর জন্য কোন বিচ্ছুরণ মাধ্যম না থাকলে আলো পৃথিবীতে আসবে না। কালো বর্ণের কোন তরঙ্গ দৈর্ঘ্য নেই, তাই বিচ্ছুরণ হবে না। বিচ্ছুরণ না হলে পৃথিবীতে আলো পৌঁছতে পারবেনা। তাই আমাদের চোখে সবকিছু কালো মনে হবে। প্রতিসরণাঙ্ক যত বেশি তরঙ্গ দৈর্ঘ্য তত কম, বিচ্ছুরণের মান বেশি তত বেশি হবে। যখন কোনো বস্তু দৃশ্যমান আলোর সব তরঙ্গদৈর্ঘ্য শোষণ করে এবং কিছুই প্রতিফলিত করে না, তখন আমরা সেটাকে কালো দেখি।
বায়ু না থাকলে সূর্য কেমন দেখাবে?
বায়ুমণ্ডল না থাকলে সূর্য দেখা যাবে কিন্ত সূর্যোদয় ও সূর্যাস্তের লাল রঙ থাকবে না। লাল, কমলা, গোলাপি রঙের খেলা হয় বায়ুমণ্ডলের কারণে। বায়ুমণ্ডল না থাকলে সূর্য হঠাৎ উঠবে, হঠাৎ ডুবে যাবে। সূর্য হবে খুব তীক্ষ্ণ ও সাদা। এখন সূর্য একটু হলুদ লাগে, কারণ বায়ুমণ্ডল কিছু আলো ছেঁকে দেয়। বায়ুমণ্ডল ছাড়া সূর্য হবে প্রায় খাঁটি সাদা, চোখ ধাঁধানো উজ্জ্বল।
বিচ্ছরণ কি?
δ = বিচ্যুতি কোণ, μ = মাধ্যমের প্রতিসরণাংক, A = প্রিজমের কোণ

