
জ্যোতির্বিজ্ঞানী গ্রেগ মেয়ার কর্ভাস নক্ষত্রপুঞ্জের দিকে তাকিয়ে মহাবিশ্বের এক নাটকীয় দৃশ্য বন্দী করেছেন, অ্যান্টেনা গ্যালাক্সি নামের দুই সংঘর্ষরত ছায়াপথের সেই দৃশ্য যেন মহাজাগতিক নৃত্যের এক অগ্নিময় মুহূর্ত। একসময়ের সুশৃঙ্খল সর্পিল গঠন ভেঙে তারা এখন এক বিশাল উপবৃত্তাকার গ্যালাক্সিতে রূপ নিতে গিয়ে সৃষ্টি করেছে বিশৃঙ্খলার অপূর্ব শিল্প।
মেয়ার জানান, তাঁর ব্যবহৃত স্কাই-ওয়াচার এসপ্রিট ১২০ টেলিস্কোপটির ফোকাল লেংথ ৮৪০ মিমি, যা সাধারণত অধিকাংশ গ্যালাক্সির জন্য কিছুটা কম। তবুও গ্যালাক্সি পর্যবেক্ষণের এই মৌসুমে তিনি সুযোগ হাতছাড়া করতে চাননি। তিনি নিয়মিত অ্যাস্ট্রোবিন-এ একই ধরনের যন্ত্র দিয়ে তোলা ছবি দেখে যাচাই করতেন লক্ষ্যবস্তু তাঁর নাগালের মধ্যে আছে কি না। আর এই দুই গ্যালাক্সির মিলনগাথা ও তাদের পেছনের বৈজ্ঞানিক গল্প তাঁকে শেষ পর্যন্ত ক্যামেরা তুলতেই বাধ্য করে।
আরো পড়ুন: আন্তর্জাতিক স্পেস স্টেশন, নাসার নতুন পরিকল্পনা
মেয়ারের ছবিতে দেখা যায়, দুটি প্রতিদ্বন্দ্বী ছায়াপথের উজ্জ্বল কমলা, হলুদ কেন্দ্র যেন জ্বলন্ত ঘূর্ণির মতো দীপ্তিমান। চারপাশে আন্তঃনাক্ষত্রিক গ্যাস, ধূলিকণা ও নবজাত নক্ষত্রের স্রোত ঘুরপাক খাচ্ছে। সেই কেন্দ্র থেকে প্রসারিত হয়েছে দীর্ঘ সর্পিল বাহু, যা মিলিয়ে গড়েছে বিস্তৃত ‘জোয়ারের লেজ’ আলোকবর্ষজুড়ে বিস্তৃত এই কাঠামো দেখতে অবিকল পতঙ্গের অ্যান্টেনার মতো। সেখান থেকেই এসেছে এর নাম, অ্যান্টেনা গ্যালাক্সি।
নাসা-এর তথ্য অনুযায়ী, এই মহাজাগতিক সংঘর্ষ নক্ষত্র সৃষ্টির এক বিস্ফোরণ ঘটিয়েছে। অ্যান্টেনার মতো প্রসারিত বাহুগুলোতে জন্ম নিচ্ছে অসংখ্য ‘সুপার স্টার ক্লাস্টার’। তবে সময়ের সাথে সাথে যখন গ্যালাক্সি দুটি একীভূত হয়ে স্থিতিশীল হবে, তখন এসব বিশাল ক্লাস্টারের প্রায় ৯০% বিলীন হয়ে যাবে; কেবল অল্প কিছু টিকে থাকবে গ্লোবুলার ক্লাস্টার হিসেব, মহাকাশের দীর্ঘজীবী নক্ষত্রগুচ্ছ।
এই দুর্লভ দৃশ্য ধারণ করতে স্টারফ্রন্ট অবজারভেটরি-র আকাশের নিচে মেয়ার প্রায় ২১ ঘণ্টা ধরে ধৈর্যের সাথে আলো সংগ্রহ করেন। বিভিন্ন জ্যোতির্বিজ্ঞান ফিল্টার ব্যবহার করে সংগৃহীত সেই আলোক-ডেটা পরে Adobe Photoshop, Adobe Lightroom এবং PixInsight-এর সাহায্যে সূক্ষ্মভাবে প্রক্রিয়াজাত ও সম্পাদনা করা হয়।
সূত্র: www.space.com