π (পাই) কি মহাবিশ্বের রহস্য বুঝতে সাহায্য করতে পারে? | Mehrab360

π (পাই) কি মহাবিশ্বের রহস্য বুঝতে সাহায্য করতে পারে?

Hossain Hawlader
লেখকঃ Hossain Hawlader
3 মিনিট পড়তে লাগবে

একটি নতুন গবেষণায় দেখা গেছে, ভারতীয় গণিতবিদ শ্রীনিবাসন রামানুজন প্রায় এক শতাব্দী আগে π সংখ্যা গণনার জন্য যে অসীম ধারা তৈরি করেছিলেন, তা শুধু গণিতেই নয়, আধুনিক পদার্থবিদ্যাতেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।

পাই কি মহাবিশ্বের ব্যাখ্যা দিবেন?
Getty images

উদাহরণ হিসেবে বললে, পৃথিবী সূর্যের চারদিকে উপবৃত্তাকার ফোকাসে রেখে ঘুরছে। এই সূত্র আমরা বিজ্ঞানী কেপলারের সূত্র থেকে পাই। এই উপবৃত্তের ক্ষেত্রফল বের করতে‌ চাইলে π এর প্রয়োজন হয়। গবেষণায় বলা হয়েছে, রামানুজনের সেই সূত্রগুলো আজও π–এর অসংখ্য দশমিক সংখ্যা বের করার ভিত্তি হিসেবে ব্যবহৃত হয়। এমনকি আধুনিক সুপারকম্পিউটার দিয়ে প্রায় ২০০ ট্রিলিয়ন পর্যন্ত দশমিক বের করার পদ্ধতির মূলেও রয়েছে তাঁর তৈরি ধারণা।

গবেষকেরা দেখিয়েছেন যে এই গণিতের সঙ্গে “লগারিদমিক কনফর্মাল ফিল্ড থিওরি (LCFT)” নামে একটি পদার্থবিজ্ঞানের ধারণার সম্পর্ক আছে। এই তত্ত্ব এমন সব সিস্টেমকে ব্যাখ্যা করে যেগুলোকে যে স্কেলেই দেখা হোক না কেন, একই ধরনের বৈশিষ্ট্য দেখা যায়।

পাই কি মহাবিশ্বের ব্যাখ্যায় সাহায্য করবে?

এই ধারণা ব্যবহার করে বিজ্ঞানীরা বিভিন্ন ভৌত ঘটনা বোঝার চেষ্টা করছেন। এর মধ্যে রয়েছে তরল কীভাবে ছিদ্রযুক্ত কোনো পদার্থের ভেতর দিয়ে যায় (পারকোলেশন), তরঙ্গ বা অস্থির প্রবাহের আচরণ এবং এমনকি কৃষ্ণগহ্বরের গঠন ও বৈশিষ্ট্যও। গবেষকরা বলছেন, তারা দেখতে চেয়েছিলেন রামানুজনের গণিত কি স্বাভাবিকভাবেই কোনো বাস্তব ভৌত ঘটনার সঙ্গে মিলে যায়। গবেষণা করতে গিয়ে তারা দেখেন যে LCFT তত্ত্বের ভেতরেই রামানুজনের সূত্রের অনেক মিল রয়েছে।

এই গবেষণায় আরও দেখা যায়, এই ধারণাগুলো কিছু ক্ষেত্রে কৃষ্ণগহ্বর সম্পর্কিত মডেলের সঙ্গেও যুক্ত। বিশেষ করে আলবার্ট আইনস্টাইনের ক্ষেত্র সমীকরণের একটি সমাধান, যাকে শোয়ার্জচাইল্ড ব্ল্যাক হোল বলা হয়। সেই ধরনের মহাজাগতিক কাঠামো ব্যাখ্যাতেও এই গণিত কাজে লাগতে পারে।

আরো পড়ুন: মহাকাশে স্যাটেলাইট ধ্বংস হচ্ছে, বিজ্ঞানীরা চিন্তিত!

রামানুজন খুব অল্প বয়সেই অসাধারণ সব গাণিতিক ধারণা তৈরি করেছিলেন। কোনো আনুষ্ঠানিক উচ্চতর প্রশিক্ষণ ছাড়াই তিনি π গণনার জন্য ১৭টি অসীম ধারা তৈরি করেছিলেন। দুর্ভাগ্যজনকভাবে তিনি ১৯২০ সালে মাত্র ৩২ বছর বয়সে মারা যান। পরে ১৯৮৮ সালে গণিতবিদ ডেভিড চুদনভস্কি এবং গ্রেগরি চুডনভস্কি একটি দ্রুত অ্যালগরিদম তৈরি করেন।‌‌ যার মাধ্যমে সুপারকম্পিউটার ব্যবহার করে π–এর ট্রিলিয়ন সংখ্যক দশমিক বের করা সম্ভব হয়। এই অ্যালগরিদমও মূলত রামানুজনের তৈরি অসীম ধারার উপর ভিত্তি করে তৈরি।

আজও বিজ্ঞানীরা মনে করেন, রামানুজন তাঁর সময়ের অনেক আগের একজন প্রতিভা ছিলেন। তাঁর গণিত শুধু সংখ্যার জগতে সীমাবদ্ধ নয়, বরং মহাবিশ্বের গভীর রহস্য বোঝার ক্ষেত্রেও গুরুত্বপূর্ণ সূত্র দিতে পারে।

সূত্রঃ পপুলার মেকানিক্স

শেয়ার করুন
লেখকঃHossain Hawlader
অনুসরণ করুন
আমি হোসাইন হাওলাদার। আমি mehrab360.com এ একজন সম্পাদক হিসেবে কাজ করছি। আমি সরকারি ব্রজলাল কলেজ, খুলনা এর পদার্থবিজ্ঞান বিভাগের ছাত্র। ইমেইল: [email protected]
মন্তব্য করুন