চাঁদের সোলার প্যানেল থেকে পৃথিবীতে বিদ্যুৎ আসবে কীভাবে

চাঁদের সোলার প্যানেল থেকে পৃথিবীতে বিদ্যুৎ আসবে কীভাবে

Hossain Hawlader
লেখকঃ Hossain Hawlader
2 মিনিট পড়তে লাগবে

ভবিষ্যতের পৃথিবী কল্পনা করুন, যেখানে রাত নামলেও শক্তির আলো নিভে না, শহর ঘুমালেও বিদ্যুতের স্রোত থামে না। যেন পৃথিবী নিজেই হয়ে উঠেছে এক অন্তহীন শক্তির নদী। সেই স্বপ্নকেই বাস্তবে রূপ দিতে সাহসী এক পরিকল্পনা সামনে এনেছে জাপানের শীর্ষ প্রকৌশল প্রতিষ্ঠান শিমিজু কর্পোরেশন। তাদের এই মহাপরিকল্পনার নাম “লুনার সোলার রিং” বা “লুনা রিং”।

এই ধারণা যেন বিজ্ঞান কল্পকাহিনি থেকে উঠে আসা এক বাস্তব নকশা। পরিকল্পনা অনুযায়ী, চাঁদের বিষুবরেখা বরাবর প্রায় ১১ হাজার কিলোমিটার দীর্ঘ এবং কয়েক শ কিলোমিটার প্রস্থের এক বিশাল সোলার প্যানেলের বলয় তৈরি করা হবে। ২০১১ সালের ফুকুশিমা পারমাণবিক বিপর্যয়ের পর জাপান যখন নিরাপদ ও পরিবেশ বান্ধব শক্তির উৎস খুঁজছিল, তখনই এই যুগান্তকারী চিন্তার জন্ম।

চাঁদ এখানে শুধু একটি উপগ্রহ নয়, একটি নিরবচ্ছিন্ন শক্তিকেন্দ্র। পৃথিবীর মতো সেখানে নেই মেঘ, নেই ঝড়, নেই আবহাওয়ার অনিশ্চয়তা। ফলে সূর্যের আলো সেখানে পৌঁছায় প্রায় অবিরাম। এই সুবিধাকে কাজে লাগিয়ে চাঁদের পৃষ্ঠে বসানো সোলার সেলগুলো সূর্যালোক শোষণ করে তা বিদ্যুৎ শক্তিতে রূপান্তর করবে। এরপর শুরু হবে আরও বিস্ময়কর অধ্যায় মহাকাশ পেরিয়ে শক্তি পাঠানো! লেজার বিম বা মাইক্রোওয়েভ প্রযুক্তির মাধ্যমে সেই বিদ্যুৎ পৃথিবীতে পৌঁছে দেওয়া হবে। পৃথিবীতে স্থাপিত রেকটেনা নামের বিশেষ অ্যান্টেনা সেই শক্তি গ্রহণ করে আবার ব্যবহারযোগ্য বিদ্যুতে রূপান্তর করবে। হিসাব বলছে, এই পদ্ধতিতে দিনে প্রায় ২৩ ঘণ্টা বিদ্যুৎ উৎপাদন সম্ভব, যার পরিমাণ প্রতি ঘণ্টায় প্রায় ১৩ হাজার টেরাওয়াট পর্যন্ত পৌঁছাতে পারে।

শুনতে যেন এক অবিশ্বাস্য শক্তির গল্প।‌ তবু বাস্তবের পথে এখনো অনেক কাঁটা। চাঁদের মাটি থেকে উপাদান সংগ্রহ, সেখানে অবকাঠামো নির্মাণ, উন্নত রোবট ব্যবস্থার ব্যবহার। সবই বিশাল চ্যালেঞ্জ। তার ওপর প্রায় ৩ লাখ ৮৪ হাজার কিলোমিটার দূরত্ব অতিক্রম করে নিরাপদে শক্তি পাঠানো এবং মহাকাশ পরিবহনের বিপুল ব্যয় এই প্রকল্পকে কঠিন করে তুলেছে।

এখনো পর্যন্ত নাসার মতো সংস্থার পূর্ণ সমর্থন ও আন্তর্জাতিক চুক্তি চূড়ান্ত হয়নি। তবে শিমিজুর স্পেস কনসাল্টিং গ্রুপের প্রেসিডেন্ট তেতসুজি ইয়োশিদা আশাবাদী। তাঁর ভাষায়, যদি এই শক্তি পৃথিবীতে পৌঁছানো সম্ভব হয়, তবে কয়লা, তেল কিংবা বায়োমাস পোড়ানোর যুগ শেষ হয়ে যাবে। তখন পৃথিবী আর অভাবের গ্রহ থাকবে না বরং হয়ে উঠবে প্রাচুর্যের এক উজ্জ্বল গোলক, যেখানে শক্তি থাকবে সীমাহীন, আর ভবিষ্যৎ হবে আলোকোজ্জ্বল।

সূত্র: timesofindia.com

শেয়ার করুন
লেখকঃHossain Hawlader
অনুসরণ করুন
আমি হোসাইন হাওলাদার। আমি mehrab360.com এ একজন সম্পাদক হিসেবে কাজ করছি। আমি সরকারি ব্রজলাল কলেজ, খুলনা এর পদার্থবিজ্ঞান বিভাগের ছাত্র। ইমেইল: [email protected]
মন্তব্য করুন