আমেরিকা এলিয়েন নিয়ে এত চিন্তা করছে কেন?

আমেরিকা এলিয়েন নিয়ে এত চিন্তা করছে কেন?

Hossain Hawlader
লেখকঃ Hossain Hawlader
3 মিনিট পড়তে লাগবে

যুক্তরাষ্ট্র আবার চাঁদে ফেরার প্রস্তুতি নিচ্ছে, আর সেই সময়েই মহাকাশে ভিনগ্রহী বা ইউএফও নিয়ে পুরোনো কৌতূহল যেন নতুন আগুন পেয়েছে। প্রশ্ন উঠছে, মহাবিশ্বে যদি উন্নত কোনো সভ্যতা থাকে, তারা মানবজাতিকে কীভাবে দেখবে? গত ফেব্রুয়ারিতে সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা মন্তব্য করেন, ভিনগ্রহীরা বাস্তব, যদিও তিনি নিজে তাদের দেখেননি এবং তারা এরিয়া ৫১-এ বন্দী নয়। আর বর্তমান প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইউএফও–সংক্রান্ত সরকারি নথি প্রকাশের প্রতিশ্রুতি দিয়ে এই বিতর্কে নতুন মাত্রা যোগ করেছেন। এর সঙ্গে আর্টেমিস ২ মিশন ঘিরে আলোচনা কৌতূহল আরও বাড়িয়ে তুলেছে।

ভিনগ্রহী প্রাণ নিয়ে মার্কিনদের বিশ্বাসের ভিত্তিও কম শক্ত নয়। ২০২১ সালের এক জরিপে দেখা যায়, দুই-তৃতীয়াংশ আমেরিকান মনে করেন অন্য গ্রহে বুদ্ধিমান প্রাণ রয়েছে। প্রায় অর্ধেক প্রাপ্তবয়স্ক বিশ্বাস করেন, সামরিক বাহিনীর দেখা ইউএফও ভিনগ্রহী প্রাণের প্রমাণ হতে পারে। এসইটিআই ইনস্টিটিউট–এর প্রধান বিল ডায়মন্ড বলেন, এই বিশ্বাস মানুষের সহজাত প্রবৃত্তির অংশ, কারণ মানুষ নিজেকে এই বিশাল মহাবিশ্বে একা ভাবতে চায় না।

তবে সবাই এতটা আশাবাদী নন। আভি লোয়েব মনে করেন, দূর থেকে পৃথিবীকে দেখলে উন্নত কোনো সভ্যতা হতাশই হবে। তাঁর মতে, যুদ্ধবিগ্রহ, ধ্বংস আর সংঘাত মানব বুদ্ধিমত্তার গৌরব নয়, বরং দুর্বলতার চিহ্ন। রুশ-ইউক্রেনীয় যুদ্ধ এর মতো সংঘাত দেখে ভিনগ্রহীরা হয়তো আমাদের ওপর নজর রাখছে, যেন আমরা তাদের জন্য হুমকি হয়ে না উঠি। একই মত এডউইন বার্জিন এরও, যিনি মনে করেন উন্নত সভ্যতা মানব আচরণকে পাগলামি হিসেবেও দেখতে পারে।

যুক্তরাষ্ট্রে ভিনগ্রহী উন্মাদনার সূচনা ধরা হয় রোজওয়েল ঘটনা থেকে। ১৯৪৭ সালে নিউ মেক্সিকোর রসওয়েলে রহস্যময় ধ্বংসাবশেষ উদ্ধারের পর সামরিক বাহিনীর বক্তব্য পরিবর্তন ষড়যন্ত্র তত্ত্বের জন্ম দেয়। এরপর হলিউডের সিনেমা ধূসর মানবাকৃতি বা সবুজ খুদে এলিয়েনের ছবি মানুষের কল্পনায় গেঁথে দেয়। প্রিসিলা ওয়াল্ড মনে করেন, সিনেমায় এলিয়েনদের আক্রমণাত্মকভাবে দেখানো আসলে মানুষের নিজের স্বভাবেরই প্রতিফলন।

এখন ‘ইউএফও’–র বদলে ‘ইউএপি’ বা আনআইডেন্টিফায়েড অ্যানোমলাস ফেনোমেনা শব্দটি বেশি ব্যবহৃত হচ্ছে। ২০২৪ সালে পেন্টাগন শত শত ইউএপি রিপোর্ট পর্যালোচনা করলেও সরাসরি ভিনগ্রহীদের উপস্থিতির প্রমাণ পায়নি। তবে বিল ডায়মন্ডের মতে, এর মানে এই নয় যে এসব ঘটনা কাল্পনিক। অনেক সময় আকাশে এমন কিছু দেখা যায়, যা ড্রোন, বিমান বা পাখি নয়, আর সেগুলোই ইউএপি হিসেবে চিহ্নিত হয়।

অন্যদিকে অবসরপ্রাপ্ত রিয়ার অ্যাডমিরাল টিমোথি গালাউডেট দাবি করেন, সরকার অনেক তথ্য গোপন করছে। তাঁর মতে, অমানবিক বুদ্ধিমত্তা নিয়ন্ত্রিত যান বাস্তব এবং এ বিষয়ে নৌবাহিনীর কাছে প্রচুর ভিডিও রয়েছে। তিনি মনে করেন, সত্য গোপন রাখা জাতীয় নিরাপত্তার জন্যও ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে। আবার বিল ডায়মন্ডের যুক্তি, যদি কোনো উন্নত সভ্যতা মহাকাশ ভ্রমণের প্রযুক্তি আয়ত্ত করে থাকে, তাহলে তারা চাইলে যোগাযোগ করবে, আর না চাইলে নিজেদের অদৃশ্য রাখাও তাদের পক্ষেই সম্ভব। রহস্যটা তাই এখনো রয়ে গেছে, মহাজাগতিক অন্ধকারে ভাসমান এক অনুত্তরিত প্রশ্ন হয়ে।

সূত্রঃ timesofindia.com

শেয়ার করুন
লেখকঃHossain Hawlader
অনুসরণ করুন
আমি হোসাইন হাওলাদার। আমি mehrab360.com এ একজন সম্পাদক হিসেবে কাজ করছি। আমি সরকারি ব্রজলাল কলেজ, খুলনা এর পদার্থবিজ্ঞান বিভাগের ছাত্র। ইমেইল: [email protected]
5 Comments